চীনের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশী জয়যাত্রা

সিডনির আকাশে সন্ধ্যা নেমে গেছে। গ্যালারিতে চলছিল অব্যাহত উচ্ছ্বাস। যদিও উপস্থিত দর্শকের আনুমানিক সংখ্যা ছয় হাজার, লাল-সবুজ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এমন যে মনে হচ্ছিল, পুরো গ্যালারিতে অন্তত ২০ হাজার প্রাণ একসাথে উদ্দীপিত।

এশিয়ান কাপের বড় মঞ্চে চীনের মতো ফুটবল পরাশক্তির বিপক্ষে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল দারুণ প্রতিরোধ দেখিয়েছে। ৯০ মিনিটের খেলায় স্কোরবোর্ডে যদিও ২-০ ব্যবধান ধরা পড়ে, বাংলাদেশের মেয়েদের দৃঢ়তা এশিয়ান ফুটবলের মানচিত্রে নতুন বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ম্যাচ পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যানচীনবাংলাদেশ
বলের দখল (%)5941
পাস (সংখ্যা)375257
শট অন টার্গেট73
কর্নার কিক62

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল, কিন্তু ৮ বার বিশ্বকাপে খেলা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াই প্রশংসার দাবি রাখে।

কোচ পিটার বাটলারের কৌশল শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল—চীনের আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়া। অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার পরিবর্তে তরুণ মিলি আক্তারকে গোলপোস্টের নিচে রাখা ছিল এক সাহসী পদক্ষেপ। রক্ষণভাগে শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন মিলে চীনের গতিশীল ফুটবলকে ৪২ মিনিট পর্যন্ত রুখে দিয়েছেন। গোলকিপার মিলি আক্তার ১২ মিনিটে ওয়াং সুয়াংয়ের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেন।

বাংলাদেশের আক্রমণও সাহসী ছিল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা বাঁ উইং থেকে দূরপাল্লার শট নিলেও চীনের গোলকিপার চেন চেন তা থামাতে সক্ষম হন। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দা দারুণ লড়াই চালিয়েছেন। প্রথমার্ধের ২৪ মিনিটে ওয়াং সুয়াং গোল করলেও ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে গোল বাতিল হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে কোচ বাটলার আক্রমণ বাড়িয়ে হালিমা, তহুরা খাতুন ও স্বপ্না রানীকে নামান। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের গতি চীনের ডিফেন্ডারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও গোল হয়নি।

ম্যাচ শেষে চীনা সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রমাণ করেছেন যে এই তরুণ দলও চ্যাম্পিয়নের সাথে লড়াই করতে সক্ষম। শারীরিক ও অভিজ্ঞতা থেকে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের মেয়েরা আত্মবিশ্বাসীভাবে মাঠ ছাড়েন।

এটি বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের জন্য আত্মবিশ্বাসের নতুন দিগন্ত। আগামী ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরও ভালো ফলাফল আশা করা যাচ্ছে।

Leave a Comment