যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ বিষয়ে যে উদাসীনতা প্রকাশ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে সরগরম আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, তিনি তা “পাত্তা দিচ্ছেন না।”
এর পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমি জড়িত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর কৌশলগত হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মেহদি তাজ ক্রীড়া পোর্টাল ভারজেশ থ্রি-কে বলেছেন, “এই হামলার পর বিশ্বকাপের দিকে ইতিবাচকভাবে তাকানো আমাদের জন্য কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আমাদের মাতৃভূমিতে সরাসরি আঘাত দিয়েছে। এ ঘটনাকে বিনা জবাবে রাখা যায় না।” তিনি ইরানের সরকারি টেলিভিশনে আরও বলেছেন, “আমরা এখন বিশ্বকাপের দিকে মনোযোগ দিতে পারব না; ক্রীড়াপ্রেমীদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম শনিবার জানান, “আমাদের লক্ষ্য হলো সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে এমন একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা।”
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো-তে অনুষ্ঠিত হবে। ইরান টানা চতুর্থবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং গ্রুপ ‘জি’-তে খেলবে।
নিচের টেবিলে ইরানের গ্রুপপর্বের সূচি দেখানো হলো:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শহর |
|---|---|---|---|
| ১৫ জুন | নিউজিল্যান্ড | Levi’s Stadium | ক্যালিফোর্নিয়া |
| ২১ জুন | বেলজিয়াম | Levi’s Stadium | ক্যালিফোর্নিয়া |
| ২৬ জুন | মিসর | Lumen Field | সিয়াটল |
বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাজনিত অবস্থা ইরানের অংশগ্রহণকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বকাপের আগে যদি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে ইরানের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং মানসিক মনোবল ব্যাহত হবে।
বিশ্ব ক্রীড়া মহলে একদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়ন, অন্যদিকে বিশ্বকাপের উত্তেজনা—এই মিলিত প্রেক্ষাপটে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েই জল্পনা চলছেই।
