আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সরকার জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো অবস্থা তাদের নেই। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আপাতত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটিতে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ওই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও পশ্চিমা জোটের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর জেরে ইরান পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে এবং গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রীড়ামন্ত্রী ডোনিয়ামাল বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইরানের ওপর পরপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশের ভেতরে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেই সরকার মনে করছে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা মানুষের আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক হলেও যুদ্ধ ও অস্থিরতার সময়ে সেই পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশের জনগণ যখন শোক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে, তখন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের জন্য অগ্রাধিকার নয়।
আগামী বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব যৌথভাবে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। প্রতিযোগিতাটি শুরু হওয়ার কথা আগামী ১১ জুন এবং শেষ হবে ১৯ জুলাই। সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের সম্ভাব্য ম্যাচগুলোর তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
| প্রতিপক্ষ দেশ | সম্ভাব্য ভেন্যু | পর্যায় |
|---|---|---|
| নিউজিল্যান্ড | লস অ্যাঞ্জেলেস | গ্রুপ পর্ব |
| বেলজিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস | গ্রুপ পর্ব |
| মিসর | সিয়াটল | গ্রুপ পর্ব |
অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান দলকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানানো হবে এবং তাদের জন্য কোনো প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা হবে না। তবে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার খবরও সামনে এসেছে।
এসব ঘটনার প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনেও পড়েছে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে প্রতিযোগিতার গ্রুপ বিন্যাস ও সূচিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। ফলে আয়োজক ও ফুটবল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দূর না হলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহল আশা করছে, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ইরানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।
