সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ের স্বাদ পেয়েছে। লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নেমে দেশের জন্য জোড়া গোল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রোনান সুলিভান। দেশের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই তার এই পারফরম্যান্স সমালোচনাহীন প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধে উভয় দলেরই গোল হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রোনান সুলিভানের জোড়া গোলের সুবাদে বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণে পাকিস্তানকে তাদের নিজের অর্ধে সীমাবদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়।
ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে উভয় দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চোখে পড়ার মতো ছিল। বাংলাদেশ একটি কর্নার আদায় করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল হয়নি। পাকিস্তানও আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল, তবে বাংলাদেশের শক্তিশালী মাঝমাঠ ও বল নিয়ন্ত্রণ তাদের কার্যকর করতে দেয়নি। প্রথমার্ধ শেষে গোল না হলেও বাংলাদেশের আধিপত্য পুরোপুরি দৃঢ় ছিল।
রোনান সুলিভানের পাশাপাশি ম্যাচের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তার ভাই ডেকলাইন সুলিভান। যদিও প্রথম ম্যাচে ডেকলাইন একাদশে ছিলেন না, মাঠে নেমে রোনান তার দক্ষতা এবং শৈল্পিক ফুটবলের কারিশমা প্রদর্শন করেন।
পাকিস্তান ম্যাচের প্রধান তথ্য
| বিষয় | বাংলাদেশ | পাকিস্তান |
|---|---|---|
| গোল | ২ | ০ |
| গোলদাতা | রোনান সুলিভান (২) | – |
| ম্যাচ সময় | ৯০ মিনিট | ৯০ মিনিট |
| আধিপত্য | বল ও আক্রমণে স্পষ্ট | নিজেদের অর্ধে সীমাবদ্ধ |
| প্রথমার্ধ গোল | ০ | ০ |
| দ্বিতীয়ার্ধ গোল | ২ | ০ |
দ্বিতীয়ার্ধে রোনান সুলিভান প্রথম গোল করে দ্রুত সুবিধা নিশ্চিত করেন। এরপর তার কাছ থেকে দ্বিতীয় গোল আসে, যা পাকিস্তানের আক্রমণ করার সম্ভাবনাকে সীমিত করে। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দল বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে শক্তিশালী পরিচিতি অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে প্রথম অংশগ্রহণে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল দল। এরপর অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে মোট সাতবার খেলে বাংলাদেশ। এই সাতবারের মধ্যে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া অন্য ছয়বারের মধ্যে চারবার রানার্সআপ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোনান সুলিভানের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য শক্তিশালী সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। এই জয় যুব ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। জাতীয় দলের জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এই ধরনের জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, রোনান ও তার সহকর্মীরা ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলের মানকে আরও উন্নত করতে সক্ষম হবেন। এমন পারফরম্যান্স দেশের যুব ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। বাংলাদেশ যুব দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে দাপুটে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও এই জয় থেকে আরও দৃঢ় হয়েছে।
