আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে তারা মুখোমুখি হবে মৌরিতানিয়া এবং ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ হবে জাম্বিয়া।
র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে এই দুই প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আর্জেন্টিনা বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে, অথচ মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়া যথাক্রমে অনেক নিচের সারিতে রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল কেন নিয়মিতভাবে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচে খুব কমই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ দল বা শীর্ষ ২০ র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে থাকা দলের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ প্রায় নেই বললেই চলে। এতে দলের ফলাফল ভালো থাকলেও প্রতিযোগিতার প্রকৃত মান নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা এক অসাধারণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলকে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং অন্যান্য বড় শিরোপা জিতিয়েছেন। প্রীতি ম্যাচেও তাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত শক্তিশালী। এখন পর্যন্ত স্কালোনির অধীনে দলটি প্রায় ৩০টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ২৪টি জয়, ৪টি ড্র এবং মাত্র ২টি পরাজয় রয়েছে।
এই দুটি পরাজয় আসে শুরুতেব্রাজিল এবং ভেনেজুয়েলা-এর বিপক্ষে। এরপর থেকে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে অপরাজিত রয়েছে এবং একের পর এক জয় তুলে নিয়েছে।
নিচে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের ফলাফল দেওয়া হলো—
| বছর | প্রতিপক্ষ | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২০২৩ | নিকারাগুয়া | ৫–১ জয় |
| ২০২৩ | এস্তোনিয়া | ৫–০ জয় |
| ২০২৩ | কুরাকাও | ৭–০ জয় |
| ২০২৩ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৫–০ জয় |
| ২০২৪ | পুয়ের্তো রিকো | ৬–০ জয় |
| ২০২৫ | অ্যাঙ্গোলা | জয় |
এই বড় ব্যবধানের জয়গুলো প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচেও আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের ম্যাচে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় দলের প্রকৃত শক্তি পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয় না।
ফরাসি ক্রীড়া মাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খুব কমই খেলেছে, যেখানে অন্যান্য শীর্ষ দল নিয়মিতভাবে শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে।
তবুও স্কালোনির পরিকল্পনায় মূল লক্ষ্য হলো দলগত সমন্বয়, কৌশলগত স্থিতি এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা। সে কারণেই তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
