ফিফার সাম্প্রতিক নীতিমালা সংশোধনের ফলে আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো আফগান নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের পথ খুলে গেল।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আফগানিস্তান নারী জাতীয় দল কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেয়নি। ২০২১ সালে দেশে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে অনেক খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে প্রবাসে অবস্থানরত আফগান নারী ফুটবলারের সংখ্যা প্রায় ৮০ জন বলে জানা গেছে।
ফিফার বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের স্বীকৃতি ছাড়া জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক কাউন্সিল সভায় এই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে” এবং খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অবস্থায় ফিফা সরাসরি কোনো জাতীয় বা প্রতিনিধিদলকে নিবন্ধনের অনুমতি দিতে পারবে। এই পরিবর্তনের ফলে আফগান নারী ফুটবলাররা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন।
বিদেশে আশ্রয় নেওয়া খেলোয়াড়দের উদ্যোগে ২০২৫ সালের মে মাসে ফিফার তত্ত্বাবধানে “আফগান উইমেন ইউনাইটেড” নামে একটি শরণার্থী দল গঠন করা হয়। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় তারা ২০২৫ সালে “ফিফা ইউনাইটেড উইমেন সিরিজ”-এ অংশ নেয় এবং তিনটি ম্যাচ খেলে, যার মধ্যে নভেম্বর মাসে লিবিয়ার বিপক্ষে একটি জয় অর্জন করে।
আগামী কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্যগুলো নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ২০১৮ সালের ডিসেম্বর |
| খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা | ২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলায় সীমাবদ্ধতা |
| প্রবাসী খেলোয়াড় সংখ্যা | প্রায় ৮০ জন |
| নতুন দল গঠন | ২০২৫ সালের মে মাসে “আফগান উইমেন ইউনাইটেড” |
| সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতা | ২০২৫ ফিফা ইউনাইটেড উইমেন সিরিজ |
| উল্লেখযোগ্য ফলাফল | লিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় |
| পরবর্তী পরিকল্পনা | জুনে অনুশীলন ক্যাম্প, বাছাই কার্যক্রম ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | ২০২৮ অলিম্পিক বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ |
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আফগান নারী ফুটবলারদের এই পুনর্গঠন ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আফগান নারী দলের সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, দলটি সবসময় অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন সুযোগের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবেন এবং প্রবাসে থাকা তরুণ প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, দেশের ভেতরে থাকা নারীদের জন্য এই প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া এখনও কঠিন।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলটি প্রস্তুতি নেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফেরার জন্য।
