ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জাতীয় দলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যদিও এখনো এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্তভাবে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করা হবে ১৮ মে।
দীর্ঘদিন ধরে চোট ও অনিয়মিত ফর্মের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। এরপর একাধিকবার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তিনি দলে ফিরতে পারেননি। তবে এবার প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়ায় তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা আবারও জোরালো হয়েছে।
এদিকে ক্লাব পর্যায়ে সান্তোসের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করে নিজের ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে তৈরি প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন নেইমার। ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে সিরি এ ম্যাচে সান্তোস ২-০ ব্যবধানে জয় পায়, যেখানে দলের প্রথম গোলটি করেন নেইমার। ম্যাচে তিনি ৮২ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং আক্রমণভাগে কার্যকর উপস্থিতি রাখেন।
এর আগে কোপা সুদামেরিকানা প্রতিযোগিতায় রেসোলেটা এফসির বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি গোল করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে গোল পাওয়ায় তার ফর্ম নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
চলতি মৌসুমে নেইমারের পরিসংখ্যানও তার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। নিচের সারণিতে তা উপস্থাপন করা হলো—
| মৌসুম ও সময়কাল | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা | সহায়তা |
|---|---|---|---|
| চলতি মৌসুম (সান্তোস) | ১৩ | ৬ | ৩ |
| শেষ ১৭ ম্যাচ | ১৭ | ১১ | ৪ |
তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি শুধুমাত্র সেই খেলোয়াড়দেরই দলে রাখবেন যারা সম্পূর্ণভাবে শারীরিকভাবে ফিট এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় আছেন। এই নীতির কারণে সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচের দলেও নেইমার জায়গা পাননি। ফলে তার ফিটনেস প্রমাণ করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলে এবং গোল করে তিনি সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ক্লাব পর্যায়ে তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স জাতীয় দলের নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অন্যদিকে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমেও নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। দলের একাধিক খেলোয়াড় প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা আবারও নেইমারের সঙ্গে খেলতে আগ্রহী। রাফিনিয়া মন্তব্য করেছেন, নেইমার দলে থাকলে দলের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তিনি তাকে আবারও জাতীয় দলের নেতৃত্বে দেখতে চান।
সব মিলিয়ে নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ফিটনেসে উন্নতি এবং প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্তি তাকে বিশ্বকাপের মূল দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
