২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই মাঠকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানা গেছে, স্টেডিয়ামটি প্রতি বছর প্রায় ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটিতে দেবে যাচ্ছে।
আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে এই স্টেডিয়ামে। ৮৭ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক ভূগর্ভস্থ পরিবর্তন এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নাসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকো সিটির নিচের ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে মাটির স্তর ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু আজতেকা স্টেডিয়াম নয়, পুরো মেক্সিকো সিটিই ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। শহরটি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় আধা ইঞ্চি করে নিচে নেমে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী মারিন গভোর্চিন এ বিষয়ে বলেন, ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে পানি উত্তোলনের ফলে মাটির ওপরের স্তর তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই প্রক্রিয়াই শহর ও স্টেডিয়ামের দেবে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আজতেকা স্টেডিয়ামটি অতীতেও বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত “হ্যান্ড অব গড” গোল। এবারের বিশ্বকাপে এই মাঠে মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ফলে এই অঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামো ও ভেন্যুর ওপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টি এখন বেশি নিবদ্ধ রয়েছে। স্টেডিয়াম দেবে যাওয়ার গতি কমাতে বা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্টেডিয়ামের নাম | আজতেকা স্টেডিয়াম |
| অবস্থান | মেক্সিকো সিটি |
| দর্শক ধারণক্ষমতা | ৮৭,৫০০ জন |
| দেবে যাওয়ার হার | বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি |
| শহরের দেবে যাওয়ার হার | মাসে প্রায় আধা ইঞ্চি |
| উদ্বোধনী ম্যাচ | মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা |
| উদ্বোধনের তারিখ | ১১ জুন |
| বিশ্বকাপ ম্যাচ সংখ্যা | ৫টি ম্যাচ |
| প্রধান কারণ | ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন |
নাসার রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত পর্যবেক্ষণে এই ভূমি পরিবর্তনের বিষয়টি ধরা পড়ে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
