আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ৩০ দিন। এই ক্ষণগণনার প্রেক্ষাপটে ফিরে আসে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসির করা ঐতিহাসিক দ্রুততম গোলের মুহূর্ত। ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় তিনি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম গোলগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেন।
ব্রাজিলের নাটাল শহরে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে খেলা শুরুর পরপরই জার্মেইন জোন্সের পাস থেকে বল পেয়ে ডেম্পসি ঘানার ডিফেন্ডার জন বোয়েকে কাটিয়ে দ্রুত শটে বল জালে পাঠান। ম্যাচের শুরুতেই এই গোল যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেয় এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই গোলের মাধ্যমে ক্লিন্ট ডেম্পসি প্রথম মার্কিন ফুটবলার হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত ইউরোপের বাইরের কোনো খেলোয়াড়ের করা অন্যতম দ্রুততম গোল হিসেবে স্বীকৃত। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার পাক সেউং জিন পর্তুগালের বিপক্ষে ৫০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। সেই তুলনায় ডেম্পসির ৩০ সেকেন্ডের গোল আরও দ্রুততম হিসেবে তালিকায় উঠে আসে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম গোলগুলোর মধ্যে ডেম্পসির এই গোল পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তুরস্কের হাকান শুকুর, যিনি ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেন, যা এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল হিসেবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
ডেম্পসির এই গোল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের জন্য নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই এমন দ্রুত গোল অনেক সময় কৌশল ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে বড় প্রভাব ফেলে, যা ওই ম্যাচেও প্রতিফলিত হয়েছিল।
বিশ্বকাপ শুরুর ৩০ দিনের এই সময়টি ডেম্পসির ৩০ সেকেন্ডের গোলকে আবারও আলোচনায় এনেছে। ফুটবল ইতিহাসে দ্রুততম ও উল্লেখযোগ্য গোলগুলোর মধ্যে এটি এখনো একটি বহুল আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা হিসেবে বিদ্যমান।
