স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে হার্টসকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে আবারও লিগ শিরোপা নিজেদের দখলে নিয়েছে সেল্টিক। নাটকীয় এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি রেকর্ড ৫৬তমবারের মতো স্কটিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। নিজেদের মাঠ সেল্টিক পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করেছিল, যেখানে ম্যাচের গতিপথ একাধিকবার বদলে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। স্বাগতিক সেল্টিক বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেও হার্টসের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল নেয় তারা। প্রথমার্ধের শেষভাগে সেই পরিকল্পনারই সফল বাস্তবায়ন ঘটে। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে অধিনায়ক লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের নিখুঁত হেডে এগিয়ে যায় হার্টস।
এই গোলের ফলে ম্যাচের পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। নির্ধারিত সমীকরণ অনুযায়ী শিরোপা নিশ্চিত করতে হার্টসের প্রয়োজন ছিল অন্তত ড্র। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে তারা তখন অনেকটাই এগিয়ে ছিল। যদি এই ফল ধরে রাখতে পারত, তবে প্রায় ছয় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্কটিশ লিগ শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেত দলটি। ফলে প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় সেল্টিক। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন আর্নে এঙ্গেলস। ঠান্ডা মাথায় স্পট-কিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এই গোল সেল্টিককে শুধু ম্যাচে ফিরিয়েই আনেনি, দ্বিতীয়ার্ধের জন্য মানসিকভাবেও বড় প্রেরণা জুগিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে সেল্টিক আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক আক্রমণ চালালেও হার্টসের রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় তা সামাল দেয়। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ৮৭তম মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। বদলি খেলোয়াড় কালাম অস্মন্ডের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন ডাইজেন মাইডা। সহকারী রেফারি প্রথমে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিলের সংকেত দেন। তবে পরে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের সময় মাইডা বৈধ অবস্থানেই ছিলেন। ফলে গোলটি বহাল থাকে এবং সেল্টিক ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এতেই নাটক শেষ হয়নি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় হার্টসের গোলরক্ষক অ্যালেক্সান্ডার শভোলো ফ্রি-কিক নিতে প্রতিপক্ষের বক্সে উঠে আসেন। সেই সুযোগে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে সেল্টিক। ফাঁকা পোস্ট লক্ষ্য করে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড কালাম অস্মন্ড। এই গোলের মধ্য দিয়েই কার্যত জয় এবং শিরোপা নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই অস্মন্ডের গোল উদ্যাপনে হাজার হাজার সেল্টিক সমর্থক মাঠে প্রবেশ করেন। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুত দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়িয়ে টানেলে নিয়ে যায়।
এই জয়ের মাধ্যমে সেল্টিক শুধু আরেকটি শিরোপাই যোগ করেনি, বরং স্কটিশ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করেছে। রেকর্ডসংখ্যক এই শিরোপা তাদের ঐতিহ্য, ধারাবাহিকতা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার আরেকটি শক্তিশালী প্রমাণ হয়ে থাকল।
