ইরানের পুরোনো পতাকা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল ফিফার

২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ববর্তী জাতীয় পতাকা এবং ওই পতাকার প্রতীকসংবলিত পোশাক বা বিভিন্ন সরঞ্জাম স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা FIFA। মার্কিন ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক বার্তা বহনকারী যেকোনো ধরনের সামগ্রী প্রদর্শন প্রতিরোধের নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ফিফা তাদের বিদ্যমান স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্টের ভিত্তিতে এ অবস্থান বজায় রাখছে। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকরা এমন কোনো পতাকা, ব্যানার, পোশাক বা প্রতীক প্রদর্শন করতে পারেন না, যা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে বা অন্য কোনোভাবে বিভাজনমূলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ইরানের ক্ষেত্রে আলোচ্য পতাকাটি হলো ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের রাষ্ট্রীয় পতাকা, যেখানে ‘সিংহ ও সূর্য’ (Lion and Sun) প্রতীক ব্যবহৃত হতো। বিপ্লবের পর দেশটির রাষ্ট্রীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন করা হয় এবং বর্তমান প্রতীক সংবলিত পতাকা চালু হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই পুরোনো পতাকাটি ইরানের প্রাচীন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে প্রবাসী কিছু ইরানি এটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ, রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীকী ব্যবহার।

ফিফার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় এই পুরোনো পতাকা বা এর প্রতীকসংবলিত পোশাক ব্যবহার করতে পারবেন কি না। এর জবাবে ফিফা জানায়, তাদের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তা বহনকারী সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই নিয়মের আওতায় সংশ্লিষ্ট পতাকা ও প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে সংস্থাটি স্পষ্ট করে।

এর আগে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও একই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সে সময় গ্যালারিতে বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা বহনকারী কিছু দর্শক এবং বর্তমান ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান সংবলিত পোশাক পরা দর্শকদের একটি অংশকে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ফিফার নিরাপত্তা ও আচরণবিধি প্রয়োগের অংশ হিসেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

ফিফা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সব দলের জন্য সমান পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতাকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা—এই তিনটি লক্ষ্য থেকেই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।

আসন্ন 2026 FIFA World Cup যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি দেশজুড়ে বিস্তৃত এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, দর্শক আচরণ এবং স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা। বিশেষ করে দর্শকদের প্রবেশপথে নিরাপত্তা যাচাই এবং স্টেডিয়াম ভেতরে অনুমোদিত সামগ্রীর তালিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রতীক, স্লোগান বা বার্তা বহনকারী সামগ্রী নিয়ন্ত্রণের নীতি আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিফার অবস্থান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক বার্তা থেকে দর্শক ও খেলোয়াড়দের আলাদা রাখাই মূল লক্ষ্য, যাতে প্রতিযোগিতা কেবল খেলাধুলাকেন্দ্রিক থাকে এবং স্টেডিয়াম পরিবেশ নিরপেক্ষ থাকে।

Leave a Comment