দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। মাঠের লড়াই শুরু হতে বাকি আর মাত্র ২২ দিন। এই ‘২২’ সংখ্যাটিকে ঘিরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন ফুটবলার রয়েছেন, যারা এক দেশে জন্মগ্রহণ করলেও অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন।
এক দেশে জন্ম নিয়ে অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এই ধারা শুরু হয় ১৯৩৪ সালের আসরে। সে বছর স্বাগতিক ইতালি তাদের দলে সাতজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করে শিরোপা জিতে নেয়। এই সাতজনের মধ্যে চারজন ছিলেন আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া—আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিকে গুয়াইতা, লুইস মন্টি এবং রাইমুন্ডো ওরসি। ইতালির শিরোপা জয়ে তাদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া সেই ইতালিয়ান স্কোয়াডে ছিলেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া আনফিলোগিনো গুয়ারিসি, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফেলিস বোরেল এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের (বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার অংশ) ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া মারিও ভার্গলিয়েন। এই বহুজাতিক জন্মসূত্রের দল নিয়েই ইতালি তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
লুইস মন্টির কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনাল খেলেন এবং উরুগুয়ের কাছে পরাজিত হন। চার বছর পর ১৯৩৪ সালে ইতালির হয়ে খেলতে নেমে বিশ্বকাপ জেতেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে ফাইনাল খেলার একমাত্র উদাহরণ হিসেবে তার নাম আজও অনন্য।
পরবর্তী সময়েও এমন একাধিক উদাহরণ দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে খেলা মার্সেল দেসাইলি (ঘানায় জন্ম) ও প্যাট্রিক ভিয়েরা (সেনেগালে জন্ম), জার্মানির হয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসে ও লুকাস পোডলস্কি (দুজনই পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী), এবং ইতালির ক্লাউদিও জেন্তিলে (লিবিয়ায় জন্ম)। এরা সবাই নিজ নিজ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করে এই তালিকাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
নিচের টেবিলে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়ের তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| খেলোয়াড়ের নাম | জন্মস্থান | প্রতিনিধিত্বকারী দেশ | বিশ্বকাপ জয় |
|---|---|---|---|
| লুইস মন্টি | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| আত্তিলিও দেমারিয়া | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| মার্সেল দেসাইলি | ঘানা | ফ্রান্স | ১৯৯৮ |
| প্যাট্রিক ভিয়েরা | সেনেগাল | ফ্রান্স | ১৯৯৮ |
| মিরোস্লাভ ক্লোসে | পোল্যান্ড | জার্মানি | ২০১৪ |
| লুকাস পোডলস্কি | পোল্যান্ড | জার্মানি | ২০১৪ |
| ক্লাউদিও জেন্তিলে | লিবিয়া | ইতালি | ১৯৮২ |
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলে এমন কিছু ফুটবলার রয়েছেন, যারা জন্মেছেন এক দেশে কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করছেন অন্য দেশকে।
উদাহরণ হিসেবে, স্পেনে জন্ম নেওয়া নিকো পাজ ও মাতেও পেলেগ্রিনো এবং ইতালিতে জন্ম নেওয়া জিউলিয়ানো সিমিওনে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মাইকেল অলিসে এবং ইতালিতে জন্ম নেওয়া মার্কাস থুরাম ফ্রান্সের হয়ে মাঠে নামবেন।
এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নাগরিকত্ব, বংশগত সম্পর্ক ও পেশাগত সিদ্ধান্তের জটিল বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান।
