আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের শারীরিক অবস্থা ও দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই বাম পায়ের কাফ মাসলের (গ্রেড-২) ইনজুরির কারণে এই তারকা ফুটবলারের মাঠে নামা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমান চোটের অবস্থা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা
ইনজুরির ১৯ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নেইমার এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মূলত জিমে পুনর্বাসন (রিহ্যাব) প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন এবং মাঠের মধ্যে সীমিত পরিসরে হালকা অনুশীলন করছেন। চোটের বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতির সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য আগামী সোমবার (৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে তার একটি এমআরআই (MRI) স্ক্যান করা হবে। এই চোটের কারণে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ তো বটেই, এমনকি মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি মাঠে নামতে পারছেন না।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও সিবিএফ-এর বক্তব্য
ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন যে, নেইমারের শারীরিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার বা নিশ্চিত নয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নেইমার বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে তার ফিটনেস অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহে তিনি মূল দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিতে পারেন। কোচের এই ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
এদিকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। সিবিএফ-এর মূল লক্ষ্য হলো, টুর্নামেন্ট চলাকালীন যেকোনো উপায়ে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ম্যাচ ফিট করে তোলা।
বিশ্বকাপে নেইমারের পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামলে এটি হবে নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। এর আগে খেলা তিনটি বিশ্বকাপে তার দলগত ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিশ্বকাপের বছর | অংশগ্রহণ | মোট গোল সংখ্যা |
| ২০১৪ | ১ম বার | — |
| ২০১৮ | ২য় বার | — |
| ২০২২ | ৩য় বার | — |
| সর্বমোট | ৩টি বিশ্বকাপ | ৮টি গোল |
উদ্বোধনী ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ভক্ত এবং দলের জন্য নেইমারের এমআরআই রিপোর্টের ফলাফল এবং পরবর্তী সপ্তাহের অনুশীলন সেশনটি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
