
বিশ্বকাপে ভাঙতে পারে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি অল্প সময়। ২০২৬ আসরেই প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল, যেখানে পূর্ববর্তী আসরগুলোতে অংশগ্রহণকারী দল ছিল ৩২টি। এর ফলে ম্যাচসংখ্যাও বেড়ে ৬৪ থেকে ১০৪-এ উন্নীত হয়েছে। নতুন সংযোজন হিসেবে থাকছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা ৩২ দলের নকআউট পর্ব। এই বাড়তি ম্যাচসংখ্যা খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যমান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড এবার ভেঙে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ভাঙতে যাওয়া রেকর্ডসমূহ
| ক্রম | রেকর্ডের ধরন | বর্তমান রেকর্ডধারী | পরিসংখ্যান | সম্ভাব্য পরিবর্তন |
|---|---|---|---|---|
| ১ | সর্বাধিক ম্যাচজয়ী কোচ | হেলমুট শন | ১৬ জয় | দিদিয়ের দেশম (বর্তমান ১৪ জয়) |
| ২ | এক আসরে সর্বোচ্চ গোল | কাতার ২০২২ | ১৭২ গোল | ম্যাচ বাড়ায় নতুন রেকর্ড সম্ভাব্য |
| ৩ | ৪০+ বয়সী খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ | পূর্বে ৭ জন (মোট) | – | এবারে সম্ভাব্য ৮ জন |
| ৪ | সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা | মিরোস্লাভ ক্লোসা | ১৬ গোল | মেসি (১৩), এমবাপ্পে (১২) |
| ৫ | সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট বিজয়ী | টমাস মুলার | ২০ বছর | লামিনে ইয়ামাল (১৮) সম্ভাব্য |
প্রথমত, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড বর্তমানে জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের দখলে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে চারটি বিশ্বকাপে ২৫ ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি ১৬টি জয় অর্জন করেন। তাঁর অধীনে পশ্চিম জার্মানি একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ এবং একবার তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এবার এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের সামনে, যার বর্তমান জয়সংখ্যা ১৪।
দ্বিতীয়ত, এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট ১৭২টি গোল হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এবারের আসরে ম্যাচসংখ্যা ১০৪ হওয়ায় এই রেকর্ড অতিক্রম করা সম্ভাবনাময়। এমনকি ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের মতো সর্বনিম্ন গড় গোল (প্রতি ম্যাচে ২.২১) বজায় থাকলেও মোট গোলের সংখ্যা ২০০-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড হতে পারে। পূর্ববর্তী ২২টি বিশ্বকাপে মোট ৭ জন খেলোয়াড় এই বয়সসীমা অতিক্রম করে অংশ নিয়েছেন। এবার এক আসরেই সম্ভাব্য ৮ জন এমন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যা নতুন রেকর্ড স্থাপন করবে।
চতুর্থত, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোল এখনো শীর্ষে রয়েছে। তবে লিওনেল মেসি (১৩) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২) এই রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, হ্যারি কেইন এবং নেইমারের গোলসংখ্যা ৮ করে হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবধান তুলনামূলক বেশি।
পঞ্চমত, সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট বিজয়ীর রেকর্ড বর্তমানে জার্মানির টমাস মুলারের, যিনি ২০১০ বিশ্বকাপে ২০ বছর বয়সে ৫ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এবারে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, বাড়তি ম্যাচ ও সম্প্রসারিত কাঠামোর কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানগত দিক থেকে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে, যেখানে পুরোনো রেকর্ডগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।