বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল সৌদি আরব। ২০২২ সালের বিগত বিশ্বকাপে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে চমক তৈরি করেছিল এশিয়ার এই দলটি। এবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও তারা দুর্দান্ত সূচনা করে এবং ম্যাচের প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে ম্যাচে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়ায় প্রতিযোগিতার পরের পর্বে যাওয়ার পথ সৌদি আরবের জন্য বেশ সহজ হলো।
খেলার শুরুর আগে শক্তির বিচারে এবং অতীত ঐতিহ্যের কারণে উরুগুয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল। তবে সৌদি আরব মাঠের পারফরম্যান্সে প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে চাপে ফেলার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। প্রথমার্ধে অত্যন্ত গোছানো এবং পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে সৌদি আরব। মাঠের এই চমৎকার বিন্যাসের সুফল তারা পেয়ে যায় ম্যাচের ৪১তম মিনিটে। একটি কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে শক্তিশালী হেড করেছিলেন সৌদি আরবের হাসান আল তামবাকতি। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা সেই বলটি সঠিকভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। তার হাত থেকে বল ফসকে বেরিয়ে গেলে সেই সুযোগটি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আবদুলেলাহ আল–আমরি হাতছাড়া করেননি। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বলটি জালে জড়িয়ে দিয়ে তিনি সৌদি আরবকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের মূল ঘটনাপ্রবাহ
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং দুই দলের গোল করার বিবরণ নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ম্যাচের সময় (মিনিট) | দলের নাম | খেলোয়াড়ের নাম | ঘটনার বিবরণ |
| ৪১ মিনিট | সৌদি আরব | আবদুলেলাহ আল–আমরি | কর্নার থেকে আসা বলে হাসান আল তামবাকতির হেডের পর উরুগুয়ের গোলরক্ষক বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। |
| ৮০ মিনিট | উরুগুয়ে | মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো | দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখে চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। |
দ্বিতীয়ার্ধের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শেষ মুহূর্তের ফলাফল
এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতির পর মাঠে নেমে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের সমন্বয়ে গঠিত আক্রমণভাগ একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে চরম ব্যস্ত ও চাপে রাখে। তবে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে ধরে রাখে এশিয়ার এই প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের ৭০ মিনিট পার হওয়ার পরও উরুগুয়ে ১–০ গোলে পিছিয়ে ছিল। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও তারা সৌদির রক্ষণব্যূহ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারছিল না। মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানোর মতো এবারও উরুগুয়ের বিপক্ষে আরেকটি বড় অঘটনের ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে সৌদি আরব। তবে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির গোলটি পায় উরুগুয়ে। মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি। আক্রমণের ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে পাওয়া এই গোলের মাধ্যমে স্কোরলাইন ১–১ সমতায় দাঁড়ায়।
খেলার শেষ সময়ে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও আর কোনো দলই গোল করতে সমর্থ হয়নি। ফলে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের স্বপ্নভঙ্গ হলেও উরুগুয়েকেও এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। বিশ্বকাপের নিজেদের এই প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
