যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভ্রমণসূচি এবং ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একাধিক শহরে একই দিনে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনি ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।
প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় টুর্নামেন্টটি ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত। ফলে বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকতে কর্মকর্তাদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইনফান্তিনো একাধিক ম্যাচে উপস্থিত থাকতে দ্রুত শহর পরিবর্তনের জন্য বিমান ব্যবহার করছেন।
১১ জুন রাতে মেক্সিকো সিটির একটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়। একই রাতে ইনফান্তিনো গুয়াদালাহারায় যান এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচে উপস্থিত থাকেন। এই দুই শহরের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২৮৫ মাইল।
পরদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পাশে দেখা যায়। এরপর ১৩ জুন তিনি একদিনে দুটি ভিন্ন শহর—সানফ্রান্সিসকো ও ভ্যাঙ্কুভার—ভ্রমণ করে পৃথক দুটি ম্যাচে উপস্থিত হন।
পরবর্তী সময়ে তিনি মিয়ামিতে ফিফার এক সামিটে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে তিনি সিয়াটলে বেলজিয়াম বনাম মিশর ম্যাচ এবং পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে উপস্থিত থাকেন।
ফিফার আয়োজক চুক্তি অনুযায়ী কর্মকর্তাদের জন্য চার্টার বিমানের সুবিধা রাখা থাকে। তবে সাধারণত ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের বিষয়টি সীমিত পরিসরে থাকে। এ বিষয়ে ফিফা জানিয়েছে, সভাপতির ভ্রমণসূচির ওপর নির্ভর করে কখনও বাণিজ্যিক ফ্লাইট, কখনও চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয় এবং এই ভ্রমণ ব্যয় সংস্থার পক্ষ থেকেই বহন করা হয়।
তবে এই ভ্রমণপদ্ধতি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমালোচনা দেখা দিয়েছে। গ্রিনপিস ইউএসএ জানিয়েছে, বর্তমান জলবায়ু সংকট ও তাপপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত জেটের ব্যবহার পরিবেশগতভাবে নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
নিচে ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক ভ্রমণসূচির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| তারিখ | অবস্থান | কার্যক্রম |
|---|---|---|
| ১১ জুন | মেক্সিকো সিটি | উদ্বোধনী ম্যাচ (মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা) |
| ১১ জুন | গুয়াদালাহারা | দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র ম্যাচ |
| ১২ জুন | লস অ্যাঞ্জেলেস | যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচ |
| ১৩ জুন | সানফ্রান্সিসকো | একটি ম্যাচে উপস্থিতি |
| ১৩ জুন | ভ্যাঙ্কুভার | আরেকটি ম্যাচে উপস্থিতি |
| পরবর্তী দিন | মিয়ামি | ফিফা সামিটে অংশগ্রহণ |
| পরবর্তী দিন | সিয়াটল | বেলজিয়াম বনাম মিশর ম্যাচ |
| পরবর্তী দিন | লস অ্যাঞ্জেলেস | ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ |
এই ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে বিশ্বকাপ আয়োজনের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং একাধিক ভেন্যুতে উপস্থিতির জন্য দ্রুত ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে।
