বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি নামা মানেই নতুন কোনো রেকর্ডের জন্ম হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে দলকে যেমন শেষ ৩২-এ তুললেন, তেমনই নিজের ঝুলিতে পুরলেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই জয়ের নায়ক ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক কীর্তি গড়ে।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে মেসির এই অবিশ্বাস্য মাইলফলকগুলোর বিবরণ প্রকাশ করেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির ব্যক্তিগত মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮-তে গিয়ে ঠেকেছে।
ক্লোসা ও মার্তাকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায়
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত দিন পুরুষদের ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৬টি গোল নিয়ে সবার ওপরে ছিলেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা। টেক্সাসের এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে মেসি ক্লোসাকে ছাড়িয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন। তবে মেসির এই কীর্তি শুধু পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি নারী ফুটবলার মার্তা বিশ্বকাপে ১৭টি গোল করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্ব রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করার সঙ্গে সঙ্গেই মেসি মার্তাকেও টপকে যান। ফলে এখন নারী ও পুরুষ উভয় ফুটবল মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার অনন্য গিনেস রেকর্ডটি লিওনেল মেসির দখলে।
ম্যাচ, জয় ও সময়ের রেকর্ডেও সবার ওপরে এলএমটেন
গোলের এই মহাকীর্তি ছাড়াও আরও তিনটি ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। প্রথমত, ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রেও তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলেছেন। বিশ্বকাপে ক্লোসার মোট জয়ের সংখ্যা ছিল ১৭টি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ২-০ ব্যবধানের জয়টি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম জয়, যা ফুটবল ইতিহাসের যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয়ত, মাঠে নামার দিক থেকেও নিজের রেকর্ডকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২৮তম ম্যাচ। এর আগে কোনো ফুটবলার বিশ্বমঞ্চে এত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
তৃতীয়ত, বিশ্বকাপে মাঠে কাটানো সময়ের হিসাবেও তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। এত দিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে খেলার রেকর্ডটি ছিল ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনির। মালদিনি বিশ্বকাপে মোট ২,২১৭ মিনিট মাঠে খেলেছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ করার পর বিশ্বকাপে মেসির মোট খেলার সময় দাঁড়িয়েছে ২,৪৮৯ মিনিট।
এক আসরের একটি একক ম্যাচ থেকেই ফুটবল ইতিহাসের চার-চারটি গিনেস রেকর্ড নিজের করে নেওয়া কেবল মেসির পক্ষেই হয়তো সম্ভব। এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে তার নামটি কেন অন্য সবার চেয়ে আলাদা ও বিশেষ এক উচ্চতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
