বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা এখন শেষের দিকে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দলগুলোর অংক চলছে রাউন্ড অব থার্টি টু বা শেষ বত্রিশের সমীকরণ নিয়ে। নকআউট পর্বে কার প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা মেলাতেই ব্যস্ত ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে দলগুলোর কোচিং স্টাফরা। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জর্ডানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের চেনা একাদশে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের মূল তারকাদের কিছুটা বিশ্রাম দিয়ে তরুণদের ঝালিয়ে নিতে চান কোচ লিওনেল স্কালোনি।
গত বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার অনুশীলন সেশনে অবশ্য কোনো বাড়তি চাপ দেখা যায়নি। বেশ ফুরফুরে মেজাজে মাঠ কাঁপিয়েছেন ফুটবলাররা। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও বেশ হাসিখুশি ও চাপমুক্ত দেখা গেছে। তবে অনুশীলনের আবহ যেমনই হোক না কেন, জর্ডানের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশল ও নতুন একাদশ নিয়ে মাঠে নামার ছক কষছেন এই মাস্টারমাইন্ড।
গোলপোস্টের নিচে বরাবরের মতোই প্রথম পছন্দ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে তিনিই মূল একাদশে শুরু করবেন। তবে বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে দ্বিতীয় গোলরক্ষক হুয়ান মুসোকে বেশ কঠোর পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। রক্ষণভাগেও আসছে পরিবর্তন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকা গঞ্জালো মন্তিয়েল এখন পুরোপুরি ফিট। অনুশীলনে নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে রক্ষণ সামলানোর মহড়া দিয়েছেন তিনি। ফলে জর্ডান ম্যাচে মন্তিয়েলের শুরুর একাদশে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত।
মাঝমাঠে কোচ স্কালোনির বড় চিন্তার কারণ কার্ড সমস্যা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এখন কিছুটা ঝুঁকিতে আছেন। জর্ডান ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড পেলে তিনি রাউন্ড অব থার্টি টু-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি মিস করবেন। এই অহেতুক ঝুঁকি এড়াতে পারেদেসকে শুরুর একাদশে না রাখার সম্ভাবনাই বেশি। তার পরিবর্তে মাঝমাঠের হাল ধরতে পারেন এজেকুয়েল পালাসিওস, জিওভানি লু সেলসো কিংবা জিউলিয়ানো সিমিওনে। অনুশীলনে এই তিন ফুটবলারকে একসঙ্গে বেশ প্রাণবন্ত দেখিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে তরুণ প্রতিভাদের ওপর বাড়তি ভরসা রাখছে আর্জেন্টিনা দল। রোজারিও সেন্ট্রালের যুব দল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভ্যালেন্তিন বারকোকে চলতি বিশ্বকাপে এখনও মাঠে নামানো হয়নি। জর্ডানের বিপক্ষে এই তরুণ ডিফেন্ডারের কপাল খুলতে পারে। উইঙ্গার হিসেবে মাঠে দেখা যেতে পারে তরুণ তুর্কি নিকো পাজকে। তবে আক্রমণভাগে স্ট্রাইকার হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজের জায়গা একরকম চূড়ান্ত।
সবচেয়ে বড় চমক থাকছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় এক নম্বরে আছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। নকআউটের কঠিন লড়াইয়ের আগে দলের সেরা তারকাকে পুরোপুরি সতেজ রাখতে চায় ম্যানেজমেন্ট। তাই জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে তাকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সময়ের জন্য মাঠে নামবেন তিনি।
আসন্ন ম্যাচে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | বর্তমান অবস্থা ও জর্ডান ম্যাচের সম্ভাবনা |
| এমিলিয়ানো মার্টিনেজ | গোলরক্ষক | জর্ডানের বিপক্ষে মূল একাদশে খেলা নিশ্চিত। |
| হুয়ান মুসো | গোলরক্ষক | অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করলেও বেঞ্চেই থাকতে হচ্ছে। |
| গঞ্জালো মন্তিয়েল | রক্ষণভাগ | ইনজুরি কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট, শুরুর একাদশে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। |
| নিকোলাস ওতামেন্দি | রক্ষণভাগ | রক্ষণভাগের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে খেলবেন। |
| মার্কোস সেনেসি | রক্ষণভাগ | মন্তিয়েলের সঙ্গে অনুশীলনে ছিলেন, মূল একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। |
| নিকোলাস তাগলিয়াফিকো | রক্ষণভাগ | রক্ষণভাগের বাম প্রান্তে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। |
| লিয়ান্দ্রো পারেদেস | মিডফিল্ডার | কার্ডের ঝুঁকিতে থাকায় নকআউটের সুরক্ষায় বিশ্রামে থাকতে পারেন। |
| এজেকুয়েল পালাসিওস | মিডফিল্ডার | পারেদেসের জায়গায় মাঝমাঠে খেলার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। |
| জিওভানি লু সেলসো | মিডফিল্ডার | মাঝমাঠের আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। |
| জিউলিয়ানো সিমিওনে | মিডফিল্ডার | কোচের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে অনুশীলনে সক্রিয় ছিলেন। |
| ভ্যালেন্তিন বারকো | রক্ষণভাগ/উইঙ্গার | চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার মূল একাদশে অভিষেকের প্রবল সম্ভাবনা। |
| নিকো পাজ | উইঙ্গার | জর্ডানের বিপক্ষে উইঙ্গার হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন। |
| হুলিয়ান আলভারেজ | স্ট্রাইকার | আক্রমণভাগের মূল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা নিশ্চিত। |
| লিওনেল মেসি | ফরোয়ার্ড | বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা, বিশ্রামের কারণে প্রথমার্ধে বেঞ্চে থাকতে পারেন। |
লিওনেল স্কালোনি শেষ পর্যন্ত কী কৌশল বেছে নেন, তা দেখতে আর্জেন্টাইন ভক্তদের ম্যাচের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাই হোক না কেন, আলবিসেলেস্তেদের লক্ষ্য যে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি জিতে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়া, তা বলাই বাহুল্য।
