বিশ্বফুটবলের অন্যতম দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার মাঠের লড়াই চিরকালই রোমাঞ্চকর। তবে এবার মাঠের সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিয়েছে ভিন্ন এক রেফারিং বিতর্কে। কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ফিফার রেফারি নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একদিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, অন্যদিকে ফ্রান্সের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাঁচজন আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল কূটনীতি এখন উত্তপ্ত।
Table of Contents
নাটুকে ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় ও মিশরের ফিক্সিংয়ের অভিযোগ
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং মোহাম্মদ সালাহ’র মিশর। ম্যাচটি ছিল চরম নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চে ভরপুর। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল মিশর। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত কামব্যাকে গল্প পাল্টে দেয় লিওনেল মেসির দল। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টিনা জয় পেলেও এই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিশর। তাদের দাবি, প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের এবং তার সহকারীদের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচটিতে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এনে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। তারা মনে করছে, ভিএআর (VAR) এবং মাঠের রেফারিদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তারা নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা অফিশিয়ালরা
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার সেই বিতর্কিত ম্যাচে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিলেন:
প্রধান রেফারি: ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের (ফ্রান্স)
প্রথম সহকারী রেফারি: সাইরিল মুগনিয়ের (ফ্রান্স)
দ্বিতীয় সহকারী রেফারি: মেহদি রাহমুনি (ফ্রান্স)
চতুর্থ রেফারি: এস্পেন ইসকাস (নরওয়ে)
রিজার্ভ সহকারী রেফারি: ইসাক বাশেভকিন (নরওয়ে)
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে পাঁচ আর্জেন্টাইন রেফারি: সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের বিতর্কিত ভূমিকার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। ল্যাটিন আমেরিকান পরাশক্তিদের পর এবার ইউরোপের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্স নামছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ‘অ্যাটলাস লায়ন’ খ্যাত মরক্কো। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবারও দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং সবকটি ম্যাচ জিতে তারা ট্রফি ধরে রাখার মিশনে এগিয়ে চলেছে।
ফিফা কর্তৃক সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা। দেখা গেছে, এই ম্যাচের প্রধান পাঁচজন অফিশিয়ালই আর্জেন্টিনার নাগরিক। আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের উপস্থিতির পর, ফ্রান্সের ম্যাচে কেন পাঁচজন আর্জেন্টাইন রেফারিকে রাখা হলো—তা নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। অনেকেই এটিকে ফিফার এক ধরনের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের দায়িত্বে থাকা অফিশিয়ালরা
আগামী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন:
প্রধান রেফারি: ফাকুন্দো টেল্লো (আর্জেন্টিনা)
প্রথম সহকারী রেফারি: হুয়ান পাবলো বেলাত্তি (আর্জেন্টিনা)
দ্বিতীয় সহকারী রেফারি: গ্যাব্রিয়েল শাদে (আর্জেন্টিনা)
চতুর্থ অফিশিয়াল: দারিও হেরেরা (আর্জেন্টিনা)
রিজার্ভ সহকারী রেফারি: ক্রিস্টিয়ান নাভারো (আর্জেন্টিনা)
নকআউট পর্বের এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রেফারিদের যেকোনো ছোট ভুলও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যেখানে দুই দেশের ফুটবলীয় সম্পর্ক মাঠের ভেতর ও বাইরে সবসময়ই উত্তপ্ত থাকে, সেখানে ফিফার এই রেফারি অদলবদলের সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতাকে কতটুকু বজায় রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মিশরের করা ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এবং ফ্রান্সের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারিদের ভূমিকা—সব মিলিয়ে বোস্টন স্টেডিয়ামের লড়াইয়ের দিকে এখন চোখ পুরো ফুটবল বিশ্বের।
