
ইউরোপীয় দ্বৈরথ: সেমিফাইনালে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা বনাম স্পেনের শতভাগ রেকর্ড
ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আজ দিবাগত রাত একটায় (বাংলাদেশ সময়) শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। ট্রফি জয়ের সোনালী সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় কোনো পক্ষই। মাঠের মহালড়াইয়ে নামার আগে দুই দলের সেমিফাইনালের অতীত রেকর্ড ও ইতিহাস ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে রোমাঞ্চ তৈরি করছে।
সেমিফাইনালে ফরাসিদের দীর্ঘ ইতিহাস: প্রথম তিন ক্ষত ও পরবর্তী দাপট
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মঞ্চে ফ্রান্সের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। ২০২৬ সালের এই আসরসহ ফরাসিরা এ নিয়ে মোট আটবার শেষ চারে পা রাখার গৌরব অর্জন করল। এর আগে খেলা সাতটি সেমিফাইনালের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুরুর দিকে ফরাসিদের পথচলা চরম বেদনাদায়ক হলেও পরবর্তীতে তারা এই ধাপে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের সেমিফাইনাল অভিযানের প্রথম তিনটি অভিজ্ঞতাই ছিল হতাশার। ১৯৫৮ সালে তারা পেলের জাদুকরী ব্রাজিলের কাছে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। এরপর আশির দশকে পশ্চিম জার্মানি যেন তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে ওঠে। ১৯৮২ সালে নাটকীয় লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার পর, ১৯৮৬ সালের আসরেও একই প্রতিপক্ষের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় ফরাসিদের।
তবে ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার সেমিফাইনালের গেরো খোলে তারা। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায়। এরপর থেকে সেমিফাইনালের মঞ্চে ফ্রান্স এক অপ্রতিরোধ্য নাম। ২০০৬ সালে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে, ২০১৮ সালে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এবং ২০২২ সালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা ফাইনালের টিকিট কেটেছিল। এবার জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি গড়ল তারা।
স্পেনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিখুঁত পথচলা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের পদচারণা ফ্রান্সের তুলনায় বেশ সীমিত বলা চলে। তবে এই ধাপে স্প্যানিশদের সাফল্যের হার শতভাগ। যখনই তারা নকআউট সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে, প্রতিবারই ফাইনাল নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে।
স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র অফিশিয়াল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালটি খেলেছিল ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। সেবার ডারবানে শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল লা রোজা। সাবেক ডিফেন্ডার কার্লেস পুয়োলের দুর্দান্ত এক বুলেট হেডার গোলে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। পরবর্তীতে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা নিজেদের ইতিহাসের একমাত্র ও ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিল।
এর আগে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন টুর্নামেন্টের চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। তবে সেবার বর্তমান নিয়মের মতো কোনো প্রথাগত সেমিফাইনাল বা নকআউট ম্যাচ ছিল না; বরং চার দলের একটি ফাইনাল গ্রুপ পর্বের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে নকআউট সেমিফাইনালের হিসেবে আজ দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চারের কঠিন বাধা পাড়ি দিতে মাঠে নামবে স্পেন। দুই দেশের ফুটবল ঐতিহ্যের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে কার কৌশল শেষ পর্যন্ত ফাইনালের রাস্তা উন্মুক্ত করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।