
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ আইওসির
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনা একটি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার এই অভিযোগটি দায়ের করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ফিফা প্রধান বারবার অলিম্পিক আন্দোলনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন। গত শুক্রবার আইওসির একজন মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইওসির মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান যে, তাদের নীতি ও নৈতিকতা কমিশন ফেয়ারস্কয়ারের করা অভিযোগটি অত্যন্ত গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করেছে। অলিম্পিক চার্টার বা সনদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিচালনায় সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে কাজ করে। এই কারণে বিষয়টিকে আইওসির নীতি ও নৈতিকতা কমিশনের সরাসরি এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে গণ্য করা হয়েছে।
বর্তমান নিয়মের অধীনে আইওসির প্রায় একশ সদস্যকে শপথ গ্রহণের সময় সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। তারা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক স্বার্থের প্রভাব ছাড়াই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও এই নিয়ম মেনে শপথ নেওয়া সদস্যদের একজন। অলিম্পিক চার্টারের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার কথা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা আছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও আরেকটি বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিল আইওসি, যা পরে তারা আমলে নেয়নি। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বিশেষ বৈঠকে ইনফান্তিনোর উপস্থিতি নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। ওই বৈঠকে তিনি একটি লাল রঙের বেসবল ক্যাপ পরে উপস্থিত হয়েছিলেন। ক্যাপটির গায়ে ‘ইউএসএ’ লেখার পাশাপাশি ‘৪৫-৪৭’ সংখ্যা দুটি খোদাই করা ছিল, যা মূলত মার্কিন রাষ্ট্রপতির দুটি ভিন্ন মেয়াদকালকে নির্দেশ করে। সেই সময় আইওসি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পেয়েছিল। ফিফা কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল যে গাজা ও ফিলিস্তিনে ক্রীড়া খাতের পুনরুদ্ধারে তারা বড় ধরনের বিনিয়োগ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রকল্প। আইওসি নিজেও অলিম্পিক সলিডারিটি কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন জনকল্যাণমূলক ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়, গত ডিসেম্বরে ফিফার পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় মার্কিন প্রশাসনকে। সেই সময় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন নেতৃত্বের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তা ছাড়া উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন সময়েও রাজনৈতিক মহলে নানান গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর জারিকৃত লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ফিফা সভাপতিকে টেলিফোন করেছিলেন বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন। খেলাধুলা এবং ভূরাজনীতির এমন নানা সংযোগ সত্ত্বেও ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে এই বিষয়গুলোর সুরাহা করা বা এর বিচার করার এখতিয়ার তাদের কাঠামোর মধ্যে পড়ে না।