
ভিনি জুনিয়রের বদলে আরেক ব্রাজিলিয়ানকে দলে নিল আর্সেনাল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের বাজারে নতুন এক চমক উপহার দিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ছেড়ে আর্সেনালে নাম লিখিয়েছেন তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইস। বেশ কিছুদিন ধরে এই দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও অবশেষে শনিবার ক্লাব দুটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসায় সব জল্পনার অবসান ঘটল। দীর্ঘমেয়াদী এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার এখন থেকে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে মাঠ মাতাবেন।
যদিও ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি, তবে নির্ভরযোগ্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী এই ট্রান্সফারের আর্থিক মূল্য প্রায় সাড়ে সাত কোটি পাউন্ড। আর্সেনালের সঙ্গে গিমারাইসের চুক্তিটি চার বছরের জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে নিউক্যাসলের ক্রীড়া পরিচালক রস উইলসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, গিমারাইসের মতো একজন অন্যতম সেরা ফুটবলারকে সহজে ছেড়ে দেওয়ার কোনো মানসিকতা তাদের ছিল না। তবে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগ্রহই শেষ পর্যন্ত এই দলবদলে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
আর্সেনালের লাল-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে নিজের উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। নতুন ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নিজের অনুভূতি প্রকাশের মতো ভাষা এই মুহূর্তে তার জানা নেই। আর্সেনালের ক্রীড়া পরিচালক আন্দ্রেয়া বের্তা এবং প্রধান কোচ মিকেল আর্তেতার সঙ্গে প্রথমবার কথা বলার পর থেকেই তিনি ভেতরে ভেতরে দারুণ রোমাঞ্চিত বোধ করছিলেন। তার মনে হয়েছিল, পেশাদার ক্যারিয়ারে এটিই তার জন্য মোক্ষম সময় একটি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার। ক্লাবটির হয়ে খেলা তার জীবনের অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁ ছেড়ে তৎকালীন অবনমনের ঝুঁকিতে থাকা নিউক্যাসল ইউনাইটেডে পা রেখেছিলেন গিমারাইস। পরবর্তীতে দলের তৎকালীন কোচ এডি হাওয়ের হাত ধরে ক্লাবটির ভোল পাল্টে যাওয়ার পেছনে মাঠের মধ্যমাঠে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার ক্ষুরধার ফুটবল বুদ্ধি এবং নেতৃত্বগুণের ওপর ভর করেই গত মৌসুমে লিভারপুলকে ফাইনালে পরাজিত করে মর্যাদাপূর্ণ লিগ কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল নিউক্যাসল। দীর্ঘ ৫৬ বছরের খরা কাটিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসে এটি যেমন প্রথম কোনো বড় ট্রফি ছিল, তেমনি গত ৭০ বছরের মধ্যে ছিল প্রথম কোনো ঘরোয়া শিরোপা জয়ের স্বাদ।
গত দুই মৌসুম ধরে নিউক্যাসলের আর্মব্যান্ড পরে সফলভাবে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন গিমারাইস। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি মোট ১৯৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে ৩১৬ গোল করার দারুণ রেকর্ড গড়েছেন। এখন নিউক্যাসলের সেই সোনালী অধ্যায় পেছনে ফেলে আর্সেনালের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগের নতুন উচ্চতা ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত এই বিশ্বমানের ফুটবলার।