
বিশ্বকাপের রোমাঞ্চের পর নভেম্বরে আবার ব্রাজিল-জাপান
২০২৬ বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও জাপান। নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় চার জাতির আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’-এ দেখা হবে দুই দলের। বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনো তাজা থাকায় ম্যাচটি ঘিরে এরই মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ।
১৩ থেকে ১৭ নভেম্বর ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাজিল ও জাপানের সঙ্গে অংশ নেবে প্যারাগুয়ে এবং স্বাগতিক সিঙ্গাপুর। চার দলের এই আয়োজনের সূচিতে প্রতিটি দলের জন্য দুটি করে ম্যাচ রাখা হয়েছে।
১৪ নভেম্বর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। কয়েক মাস আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ পর্বেও একই প্রতিপক্ষের লড়াই দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জাপানকে হারিয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই গোল জাপানের বিশ্বকাপ অভিযানকে আরও কঠিন করে দিয়েছিল।
এবার সিঙ্গাপুরের ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রীতি ম্যাচ হলেও দুই দলের জন্য এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে হারের পর জাপান আবার ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপ-পরবর্তী দল গঠন, খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন এবং নতুন কৌশল পরখ করার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
টুর্নামেন্টের সূচনা হবে ১৩ নভেম্বর। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। পরদিন ব্রাজিল ও জাপানের লড়াইয়ের পর ১৭ নভেম্বর শেষ দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল খেলবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। পরে জাপান মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক সূচিও বেশ ব্যস্ত। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৫ সেপ্টেম্বর কুইন্সল্যান্ডে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ব্রাজিলের। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পরও দলটির আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে।
সেই ধারাবাহিকতারই পরের ধাপ হবে সিঙ্গাপুরের চার জাতির প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ব্রাজিল ও জাপানের পুনর্মিলন তাই সাধারণ একটি প্রীতি ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিতে পারে। জাপান যেমন আগের হারের জবাব দিতে চাইবে, ব্রাজিলও বিশ্বকাপের পর নিজেদের শক্তি ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।