
ইয়ামালের জোড়া গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা
মেস্তায়া স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে তখন পিনপতন নীরবতা। স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়ার সমর্থকরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না তাদের দলের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ। শুরু থেকেই মাঠে কেবল একটাই দল রাজত্ব করেছে, আর সেটি হলো হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা। এই দুর্দান্ত জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। চার ম্যাচের সবকটিতে জিতে তাদের সংগ্রহ এখন পূর্ণ ১২ পয়েন্ট, যা তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছিলেন হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে আধিপত্য বজায় রেখেছিল বার্সা। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে গোলের খাতা খোলে অতিথিরা। ফারমিন লোপেজের নিখুঁত পাস ধরে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে দারুণ দক্ষতায় কাটিয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে জড়ান তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। ঠিক দুই মিনিট পর আবারও জালে বল পাঠান এই স্প্যানিশ উইঙ্গার, তবে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় বার্সেলোনা। ম্যাচের ২২ মিনিটে দুর্দান্ত এক আড়াআড়ি শটে ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফারমিন লোপেজ। বলটি গোলপোস্টের কোণ ঘেঁষে জালে আশ্রয় নেয়। যদিও এর পরপরই বার্সার রক্ষণভাগের ভুলে ভ্যালেন্সিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। রদ্রির পাস থেকে পাওয়া দানইয়োমার বিপজ্জনক শটটি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলের ক্লিনশিট রক্ষা করেন গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া। প্রথমার্ধের বাকি সময় জুড়েও গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সা, তবে ব্যবধান আর বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় বার্সেলোনা। ৫০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন রাফিনিয়া। লোপেজের বাড়িয়ে দেওয়া বল আলতো টোকায় জালে ঠেলে দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখে এটি তার ষষ্ঠ লিগ গোল। একই সাথে লা লিগার ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ৫০টিতে উন্নীত করলেন তিনি। এরপর রদ্রির একটি হেডার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর লোপেজ ও ওলমোরাও গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
ম্যাচের শেষভাগে এসে আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় বার্সেলোনা। ৭৯ মিনিটে দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া পাস থেকে দুর্দান্ত গতির শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মিডফিল্ডার পেদ্রি। এই গোলের ঠিক পরেই পেদ্রিকে তুলে নিয়ে নতুন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে মাঠে নামান কোচ ফ্লিক, যার মাধ্যমে বার্সার জার্সিতে অভিষেক ঘটে তার। ম্যাচের একদম শেষ পর্যায়ে ৮৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল। ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে তার চমৎকার শটটি সরাসরি জালে জড়ালে ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ের ফলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বেশ কিছুটা ব্যবধানে এগিয়ে গেল কাতালানরা।