
চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রাখল আর্সেনাল
এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে চেলসিকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে মিকেল আর্তেতার দল। উত্তর লন্ডনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা, যা শেষ পর্যন্ত দর্শকদের জমজমাট এক ফুটবলের স্বাদ দিয়েছে। মাঠের প্রতিটি কোণায় দুই দলের ফুটবলারদের লড়াই ছিল দেখার মতো। পুরনো বন্ধু মিকেল আর্তেতা এবং জাবি আলোনসোর ডাগআউটের এই স্নায়ুর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্সেনাল বস আর্তেতাই।
ম্যাচের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গতিময় ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। খেলা শুরুর মাত্র ৭৭ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে সবাইকে চমকে দেয় সফরকারী চেলসি। বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালে পাঠান মরগান রজার্স। গোলকিপার ডেভিড রায়া বলের নাগাল পাওয়ার আগেই স্কোরলাইন ১-০ করে ফেলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। এত দ্রুত গোল হজম করে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও দ্রুতই নিজেদের সামলে নেয় স্বাগতিকরা।
প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত খেলায় ফেরে আর্সেনাল। মার্টিন ওডেগার্ড ও বুকায়ো সাকা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকেন। স্বাগতিকরা একবার বল জালেও জড়িয়েছিল, তবে ভিএআরের কল্যাণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর প্রথমার্ধের মাঝপথে কাই হাভার্টজের চমৎকার এক নিচু শটে সমতা ফেরায় গানার্সরা। সমতা ফেরার পর ম্যাচের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে পেদ্রো নেতোর একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না আসলে প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারত ব্লুজরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকরা। কাই হাভার্টজের বুদ্ধিদীপ্ত ডামি পাস থেকে দারুণ এক শটে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করেন দলনেতা মার্টিন ওডেগার্ড। আর্সেনাল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টে যায়। এরপর চেলসি সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়, তবে আর্সেনালের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার ডেভিড রায়ার দৃঢ়তায় সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চেলসির তরুণ তারকা এস্টেভাওয়ের একটি চমৎকার বাঁকানো শট দক্ষতার সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়ে দলের জয় পুরোপুরি নিশ্চিত করেন রায়া। এই দারুণ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত হলো গানার্সদের।