
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলের বড় হারে লজ্জার রেকর্ড বাংলাদেশের
এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে সোমবার শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিফা র্যাঙ্কিং ও ফুটবলের সামগ্রিক শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আর শেষ পর্যন্ত ১০-০ গোলের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কোচ পিটার বাটলারের দলকে।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখাতে গিয়ে বড় ভুল করে বসে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকজন নতুন ও কম অভিজ্ঞ ফুটবলারকে নিয়ে একাদশ সাজান কোচ পিটার বাটলার। মাঠে বল গড়ানোর পর থেকেই তার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রক্ষণভাগে ভয়াবহ সমন্বয়হীনতা, ঘন ঘন পাস মিস এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার খেসারত দিতে হয় দ্রুতই।
অবশ্য লড়াইয়ের শুরুটা হতে পারত অন্যরকম। খেলার মাত্র ৩ মিনিটে উত্তর কোরিয়া একবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠালেও ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ওই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপর পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। মাত্র ১২ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। খেলার বয়স যখন মাত্র ২০ মিনিট, ততক্ষণে স্কোরলাইন ৪-০ করে ফেলে উত্তর কোরিয়া।
বিশেষ করে কোরিয়ার দ্বিতীয় গোলটি ছিল বাংলাদেশের রক্ষণের চরম ব্যর্থতা। শর্ট কর্নার থেকে বক্সে আসা বলটি ক্লিয়ার করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। তিনি পা বাড়ালেও শেষ মুহূর্তে কেন যেন পা সরিয়ে নেন। একই সময়ে গোলরক্ষক মিলি আক্তারও নিজের পোস্ট ছেড়ে নড়েননি। বলটি কারো মাথায় না লেগে সোজা দূরের পোস্ট দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারের এমন অদ্ভুত বোঝাপড়ার অভাব ম্যাচ থেকে তখনই ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে।
এই ১০ গোলে হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দল নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের অনভিপ্রেত রেকর্ড গড়েছে। এর আগে দলটির সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ডটি ছিল ৯ গোলে। পুরো ম্যাচে নিজেদের অর্ধেই কোণঠাসা হয়ে কাটাতে হয়েছে সাবিনাদের। এশিয়ান কাপের মতো বড় আসরে এমন পারফরম্যান্সের পর কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামনের ম্যাচগুলোতে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ দলের জন্য।