
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে রেসিংকে ৭-২ গোলে হারাল বার্সা
গোলের বন্যা অব্যাহত রেখে লা লিগায় আরও একটি বড় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে লিগের নবাগত দল রেসিং সানটান্ডারকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। পাশাপাশি গোল পেয়েছেন জোয়াও কানসেলো, জেসুস ও লামিনে ইয়ামাল।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত গতির শটে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও কানসেলো। রেসিংয়ের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে তাঁর নেওয়া শট সরাসরি জালে জড়ায়। গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকরা।
২২তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে যায় বার্সেলোনা। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। তবে ৩০তম মিনিটে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরায় রেসিং। মিডফিল্ডার গেয়ির গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে সফরকারীরা।
এর ছয় মিনিট পর আবারও বিপদ বাড়ে রেসিংয়ের। অ্যাসিয়ার ভিল্লালিবেরের আত্মঘাতী গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও একবার গোল করেন রাফিনিয়া। ৪২তম মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে স্বাগতিকরা। ৬৫তম মিনিটে রেসিংয়ের ইয়াসির জাবিরি গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন। কিন্তু তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পর পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক এবং বার্সেলোনার স্কোর দাঁড়ায় ৫-২।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১। দলের আক্রমণভাগে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বার্সেলোনার দুর্দান্ত শুরুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
৭২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাঁকে। এর মধ্যেই ৭৯তম মিনিটে রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস লা লিগায় নিজের গোলের খাতা খুলে ফেলেন। ইয়ামালের থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে প্রথম স্পর্শেই বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার।
ম্যাচের শেষ দিকে গোলের দেখা পান ইয়ামালও। ৮৯তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে আক্রমণ গড়ে ডি-বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন আডেইয়েমি। সেখান থেকে জোরালো শটে দলের সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল। এই গোলের মাধ্যমে লা লিগায় টানা চার ম্যাচ এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা। চলতি লিগে তাঁর গোলসংখ্যা এখন সাত।
৭-২ গোলের এই জয় বার্সেলোনার চলতি মৌসুমের গোল করার সামর্থ্যেরও আরেকটি বড় উদাহরণ। এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলেছে কাতালান ক্লাবটি। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচেই তারা অন্তত পাঁচটি করে গোল করেছে। সব মিলিয়ে সাত ম্যাচে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা ৩৩, বিপরীতে প্রতিপক্ষের গোল মাত্র সাতটি।
লা লিগার পয়েন্ট তালিকাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ছয় ম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে বার্সেলোনার সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট। এই জয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে তারা। তিন পয়েন্ট পিছিয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, লিগে তৃতীয় হারের পর রেসিং সানটান্ডারের পয়েন্ট ৭। তারা রয়েছে তালিকার দশম স্থানে।
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, ইয়ামালের ধারাবাহিক গোল এবং দলের সামগ্রিক আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার রাতটি ছিল গোল উৎসবের। মৌসুমের শুরুতেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে এমন ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে কাতালানরা নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে।