
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন, কে এই বাজুনু?
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা একজন ফুটবলারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে ওঠে বিশেষ। তবে আয়ারল্যান্ডের গোলকিপার গ্যাভিন বাজুনুর কাছে একটি ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্তও হয়ে উঠেছে নিজের বিশ্বাসের প্রকাশ। ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ বর্জন করে ২৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এখন আলোচনায়।
২০০২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে জন্ম বাজুনুর। তার বাবা গ্রিন বাজানু নাইজেরিয়ান এবং মা কারা ফ্যারেলি আইরিশ। শৈশব থেকেই আয়ারল্যান্ডের ফুটবল কাঠামোর মধ্যে বেড়ে ওঠেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায় থেকেই দেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে অল্প বয়সেই জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় তার জন্য। মাত্র ১৯ বছর বয়সে আয়ারল্যান্ডের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় বাজুনুর।
ক্লাব ফুটবলেও খুব দ্রুত নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই গোলকিপার। শামরক রোভার্সে খেলার সময় তার প্রতিভা নজরে পড়ে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির। ২০১৯ সালে সিটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে থাকার সময় পেশাদার ফুটবলের জন্য নিজেকে আরও প্রস্তুত করেন বাজুনু।
এরপর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ধারে রচডেল ও পোর্টসমাউথে খেলেন তিনি। নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২২ সালে সাউদাম্পটনে যোগ দেন বাজুনু এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও খেলার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে খেলছেন।
জাতীয় দলেও ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন বাজুনু। সাম্প্রতিক সময়ে আয়ারল্যান্ডের প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত দেশটির হয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই গোলরক্ষক।
তবে ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচকে ঘিরে তার ক্যারিয়ারে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক অধ্যায়। ম্যাচটি সামনে রেখে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত দল ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাজুনু ব্যক্তিগতভাবে ভিন্ন অবস্থান বেছে নেন এবং ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাজুনু জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ভুল বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, তার অবস্থান ইসরায়েলি জনগণ কিংবা ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং ওই অঞ্চলে চলমান সহিংসতা ও নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদেই তিনি ম্যাচটি বর্জন করেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারা যেখানে একজন ফুটবলারের জন্য বড় অর্জন, সেখানে সেই দলের একটি ম্যাচ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। বাজুনুর ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করা বাজুনুর সামনে ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ডের হয়ে আরও অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে নেওয়া একটি ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত তাকে ফুটবলের মাঠের বাইরেও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তার অবস্থান নিয়ে ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু নিজের বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।