
মাঠে ফিরেই কোচের প্রশংসা কুড়ালেন ডি ইয়ং
নেদারল্যান্ডসের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পেয়েছিলেন ডি ইয়ং। সেই চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন ২৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার। দীর্ঘ বিরতি শেষে গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন তিনি। ওই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে প্রায় ১৬ মিনিট খেলেন বার্সেলোনার এই গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার।
চোট থেকে ফিরে আসার পরপরই তাঁকে পুরো ম্যাচ খেলানোর ঝুঁকি নেননি কোচ ফ্লিক। বরং সীমিত সময়ের জন্য মাঠে নামিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ম্যাচটিতে ডি ইয়ংকে তাঁর পরিচিত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনের পরিবর্তে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে খেলান বার্সেলোনা কোচ। এর মধ্য দিয়ে দলের মাঝমাঠে তাঁকে ভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহারের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তনে সন্তুষ্ট ফ্লিক। অনুশীলনে তাঁর পারফরম্যান্স এবং বল পায়ে দলের খেলায় অবদান রাখার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন বার্সেলোনার এই কোচ।
ফ্লিক বলেন, ‘সে অনুশীলনে খুব ভালো করেছে এবং বল পায়ে আমাদের অনেক শক্তি জোগায়। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও তার মাঠে নামাটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
কোচের এমন মন্তব্য ডি ইয়ংয়ের জন্য ইতিবাচক বার্তা। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে কোচের আস্থা ফিরে পাওয়া যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশংসা পেলেই মূল একাদশে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বার্সেলোনার মাঝমাঠে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে তাঁকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে।
দলের মাঝমাঠে পেদ্রি, গাভি ও মার্ক বার্নালের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। ফলে নিয়মিত একাদশে ফিরতে হলে ডি ইয়ংকে নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হবে। মূলত বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, চাপের মধ্যে সঠিক পাস দেওয়া এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত বল পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজগুলোতে তাঁর দক্ষতা বার্সেলোনার জন্য কার্যকর হতে পারে।
আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডেও সুযোগ তৈরি হতে পারে ডি ইয়ংয়ের সামনে। ওই পজিশনে দানি ওলমোর চোটের কারণে দলের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সেখানে খেলছেন ফেরমিন লোপেজ। পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লিক ডি ইয়ংকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোন পজিশনে তিনি নিয়মিত খেলবেন, তা নির্ভর করবে দলের কৌশল, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা এবং তাঁর পারফরম্যান্সের ওপর।
দীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে থাকতে চান না ডি ইয়ং নিজেও। ডাচ টেলিভিশন চ্যানেল জিগো স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ডি ইয়ং বলেন, ‘আমি কখনোই দীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে থাকিনি, আর এই মৌসুমেও সেটা চাই না। এখন আমি পুরোপুরি ফিট এবং প্রতিদিন আরও ফিট হচ্ছি। আশা করি, আরও বেশি সময় খেলার সুযোগ পাব।’
তবে দ্রুত মাঠে ফেরার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ধাপে ধাপে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন এই ডাচ তারকা। দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকার পর শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়াই যথেষ্ট নয়; ম্যাচের গতি, প্রতিপক্ষের চাপ এবং টানা খেলার ধকল সামলানোর সক্ষমতাও ফিরে পেতে হয়। সে কারণেই ধীরে ধীরে খেলার সময় বাড়ানো তাঁর প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে ডি ইয়ং আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, ধীরে ধীরে ফিরতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো নিয়মিত খেলা এবং যত দ্রুত সম্ভব মূল একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়া।’
বার্সেলোনার মাঝমাঠে ডি ইয়ংয়ের অভিজ্ঞতা ও বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হতে পারে। তাঁর উপস্থিতি বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে কোচকে আরও বিকল্প দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে জায়গা ধরে রাখতে হলে তাঁকে চোটমুক্ত থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে।
এখন ডি ইয়ংয়ের সামনে দুটি বড় লক্ষ্য—ফিটনেস ধরে রাখা এবং মাঠে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানো। এল ক্লাসিকোয় প্রত্যাবর্তন এবং ফ্লিকের প্রশংসা তাঁকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তবে বার্সেলোনার মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে শেষ কথা বলবে তাঁর পারফরম্যান্সই।