
এশিয়ান ম্যাচে রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নামছে আল নাসর
সোমবার উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে পাকতাকোরের মুখোমুখি হওয়ার কথা আল নাসরের। ম্যাচটির আগে রোনালদোসহ তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটির কোচিং স্টাফ। সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এশিয়ান প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আল নাসরকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এসেছে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরপরই। গত সপ্তাহে সৌদি প্রো লিগের একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ওই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৫-এ। অর্থাৎ, ফুটবল ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ১৫টি গোল।
উজবেকিস্তানে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আল নাসরের কোচ অ্যাঞ্জে পোস্টেকোগলু জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ ও দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করেই তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ম্যাচের চাপ এবং দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা তাদের বিশ্রাম দিয়েছি।’
রোনালদোর পাশাপাশি কোমান ও সিমাকানের অনুপস্থিতিও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনজনই আল নাসরের বিভিন্ন পজিশনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে রোনালদোর গোল করার সামর্থ্য এবং অভিজ্ঞতা দলের আক্রমণভাগকে বাড়তি শক্তি জোগায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়বে।
এদিকে এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না আল নাসর। প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলটি পশ্চিম অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে নবম স্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাবের মধ্যে তাদের অবস্থান সবচেয়ে নিচে।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে। পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে দলগুলোকে। প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে ১৬টি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই অঞ্চলের শীর্ষ আটটি করে দল নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ফলে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে আল নাসরকে দ্রুত নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করতে হবে।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য আশাবাদী পোস্টেকোগলু। তাঁর মতে, মৌসুমের শুরুতে প্রস্তুতির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে সেগুলো কাটিয়ে উঠছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শুরুটা কঠিন হলেও প্রস্তুতির পরিবেশ এবং মৌসুমের শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা এখন ভালো অবস্থায় পৌঁছেছি।’
তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আল নাসরের এশিয়ান অভিযানকে প্রভাবিত করছে। গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল ওয়াসল নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে রিয়াদে যেতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিপক্ষে আল নাসরের নির্ধারিত ম্যাচ স্থগিত করে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর আল নাসরের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য আরেকটি ম্যাচের কিক-অফ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সতর্কতামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ম্যাচ স্থগিত ও সূচিতে পরিবর্তন আসায় দলগুলোর প্রস্তুতি এবং ভ্রমণ পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আল নাসরের ক্ষেত্রেও ব্যস্ত সূচির সঙ্গে এসব পরিস্থিতি সামলানো বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকতাকোরের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো, কোমান ও সিমাকানকে ছাড়াই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে আল নাসরকে। এশিয়ান প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান উন্নত করা এবং প্রথম মহাদেশীয় শিরোপার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে ম্যাচটিতে ভালো ফল পাওয়া দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে রোনালদোর লক্ষ্য থাকবে বিশ্রাম শেষে মাঠে ফিরে নিজের গোলসংখ্যাকে ১ হাজারের দিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।