ক্রিকেট খেলা শুরু । ক্রিকেট খেলার ১৫ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 ক্রিকেট খেলা শুরু । পনের নম্বর আইন

ক্রিকেট খেলা শুরু । ক্রিকেট খেলার ১৫ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। প্লে-ডাকা

প্রতি ইনিংসের এবং প্রতিদিনের খেলা শুরুতে এবং যে কোন বিরতি বা ব্যাঘাতের পরে খেলার পুনরায় শুরুতে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার ‘প্লে’ বলে ডাকবেন ।

২। মাঠে অনুশীলন

ম্যাচের কোন দিনে বা কোন সময়ে মাঠে পীচের ওপর রোলিং বা ব্যাটিং অনুশীলন করা যাবে না। মাঠেও কোন অনুশীলন করতে দেয়া হবে না যদি আম্পায়ারদের মতে তা সময়ের অপব্যবহার বলে বিবেচিত হয়।

 

৩। রানআপের ট্রায়াল

যে কোন খেলার সেশনে ‘প্লে’ ডাকার পর কোন বোলার রানআপের ট্রায়াল করতে পারবেন না। তবে আম্পায়ার যদি সন্তুষ্ট হন যে কোন একটা উইকেটের পতনের পর বোলার রানআপের ট্রায়াল করলে কোন সময় নষ্ট হবে না, তবে তিনি তাতে সম্মতি দিতে পারেন ।

জ্ঞাতব্য বিষয়

আইনের বিধি এই যে মাঠে সমস্ত পরিমাপগুলি এবং সংজ্ঞাগুলি সঠিকভাবে পালিত হয়েছে উপলব্ধি করেই বোলার প্রান্তের আম্পায়ার খেলার সূচনা করবেন।

প্যাভিলিয়ন বা তাঁবুতে একটি ঘন্টা থাকে যেটাকে আম্পায়াররা সঙ্কেতসূচক সতর্ক- বাণী হিসাবে ব্যবহার করেন খেলা আরম্ভের ১৫ মিনিট পূর্বেই। ৫ মিনিট পূর্বে আসে দ্বিতীয় ঘন্টাধ্বনি । তারপরই দুই আম্পায়ার মাঠে নামেন।

মাঠের বিশেষ নিয়ম বা অবস্থাগুলি  খেলা শুরুর আগেই আম্পায়ারদের জেনে নিতে হয়। মাঠের অবস্থা ও স্থায়ী বাধা, সাইটস্ক্রীন, বাউন্ডারি লাইনে ফ্ল্যাগ বা নিশানধারী পতাকা আছে কিনা, পীচ ঢাকার ব্যবস্থা রোলার স্কোরবোর্ডের অবস্থান এবং স্কোরারদের অবস্থিতি সবকিছুই আম্পায়ারদের অবহিত হতে হয়। স্কোরাররা একটি রঙ্গিন পতাকা নিয়ে থাকেন। স্কোরার এবং আম্পায়ার দুজনে একটি যৌথ-সংস্থা হিসাবে কাজ করবেন এইটিই বিধেয়। পরস্পর একে অপরের সম্পূরক হিসাবে কাজ করলে সময়ের অপচয় হবে না এবং খেলাটিও সুশৃঙ্খলভাবে চলবে ।

 

ফিল্ডিং দল টেন্ট বা প্যাভিলিয়ন থেকে বেরিয়ে মাঠে অনুপ্রবেশ করবেন আম্পায়ার উইকেটে এসে দাঁড়াবার পর মূহূর্তেই। আম্পায়ারদের দুইপ্রান্তের উইকেট যথাযথভাবে পোঁতা ও খাটান হয়েছে কিনা অনুধাবন করা প্রয়োজন। স্কোরাররা কোথায় বসেছেন তা আম্পায়াররা ভাল করে জেনে নেবেন, না হলে খুব অসুবিধায় পড়বেন। তারপর তাঁরা দুটি করে বেল ষ্টাম্পের ওপর রাখবেন। ব্যাটসম্যানকে গার্ড দেবার আগে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার মাঠের ভিতর এগারজন ফিল্ডার আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নেবেন ।

একজন স্ট্রাইকার সাধারণত ‘ওয়ান লেগ’ ‘টু-লেগ’ সেন্টার প্রভৃতি গার্ড বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের নিকট চেয়ে থাকেন। বোলারের রান আপ চিহ্নিত করার জন্য আম্পায়ারা ‘মারকার সাদা রং করা সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসেন ও খেলা শুরু করার আগে বোলার চাইলে সেটি দিয়ে দেন।

এটির সাহায্যে বোলার তাঁর রানআপের শেষ সীমানা চিহ্নিত করেন ও তাতে এক নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বল করতে সুবিধা হয়।

ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক তাঁর বোলার কোন প্রান্ত থেকে সূচনা করবেন তিনি বোলারের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করবেন। আম্পায়ারদ্বয়ের বারবার দেখা উচিত যে একই সরলরেখার উপর উইকেট দুটি দুই প্রান্তে ঠিক বিন্যাস হয়েছে কিনা।

এইবার ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক তাঁর ফিল্ডার সাজিয়েছে কিনা তা আম্পায়ার দেখে নেবেন। সাইটস্ক্রীন দুটি এমনভাবে রাখা থাকবে যাতে আম্পায়াররা বুঝতে পারেন যে কোন বোলার তাঁর প্রান্ত থেকে বল করলে বোলারের বল ধরা হাতটা স্ক্রীনের ভিতরেই থাকবে ও স্ট্রাইকারের বল দেখতে ও খেলতে কোন অসুবিধা হবে না।

 

এইবার বোলার প্রান্তের আম্পায়ার তাঁর ঘড়ি সতীর্থের সাথে মিলিয়ে নেবেন এবং যদি বড় ঘড়ি প্যাভিলিয়নে থাকে তার সাথেও দেখে নেবেন। মাঠের বাউন্ডারি লাইনের ভিতর কোন সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার বা কর্মকর্তারা থাকবেন না।

আম্পায়ার ‘প্লে’ ডাকার আগে যে বোলার প্রথমে বল দেবেন তিনি ট্রায়াল রানআপ করতে পারেন যদি সময় নষ্ট না হয়। বোলার প্রান্তের আম্পায়ার যখন দেখবেন যে ব্যাটসম্যানদ্বয় ও স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ার সব বিষয়ে সজাগ ও প্রস্তুত আছেন, তখন তিনি যে বোলার ম্যাচের প্রথম ওভারটি সূচনা করবেন তাঁর হাতে বলটি তুলে দেবেন ।

তারপর সরকারি স্কোরারকে ও স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারকে সংকেত দিয়ে খেলা সূচনার জন্য ‘প্লে’ ডাকবেন। এবং এই ডাকাটি এমনভাবে স্পষ্ট হয় যাতে ফিল্ডার, ব্যাটসম্যান ও অপর আম্পায়ার শুনতে পান।

Leave a Comment