
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলেই আর্জেন্টিনার নতুন ইতিহাস গড়বেন মার্টিনেজ
বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচটি কেবলই আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, দলটির প্রাচীর এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এর জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক ক্ষণ। আটলান্টার মাঠে খেলতে নামলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকের একক রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন তিনি।
ফিয়োলের অমর রেকর্ড ভাঙার দোরগোড়ায় ‘বাজপাখি’
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। ওই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ছিল মার্টিনেজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৩তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনাকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি গোলরক্ষক উবালদো ফিয়োলের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেন। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে পা রাখলেই ১৪ ম্যাচ নিয়ে এককভাবে তালিকার শীর্ষস্থানে বসে যাবেন মার্টিনেজ।
এই অনন্য মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে মার্টিনেজ ইতিমধ্যেই পেছনে ফেলেছেন আরেক আধুনিক ফাইনালিস্ট গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরোকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ এবং ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলপোস্টের নিচে মোট ১২টি ম্যাচ খেলেছিলেন রোমেরো। অন্যদিকে কিংবদন্তি উবালদো ফিয়োল জার্মানি ১৯৭৪, আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ এবং স্পেন ১৯৮২—এই তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট ১৩টি ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত ছিল সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকদের ম্যাচ সংখ্যা
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকদের ম্যাচ খেলার পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ফিয়োল, মার্টিনেজ ও রোমেরোর পরেই আছেন নেরি পুম্পিদো। ১৯৮৬ সালে মারাদোনার বিশ্বকাপজয়ীবাহিনীর এই গোলরক্ষকের ঝুলিতে রয়েছে ৯টি ম্যাচ। এছাড়া সের্হিও গয়কোচেয়া ও আন্তোনিও রোমা খেলেছেন সমান ৬টি করে ম্যাচ। ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলা রোবের্তো আব্বোন্দানসিয়েরি ও ১৯৭৪ সালের দানিয়েল কার্নেভালি খেলেছেন ৫টি করে ম্যাচ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অন্তত একবার হলেও মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন ১৯ জন গোলরক্ষক।
| গোলরক্ষকের নাম | বিশ্বকাপের মোট ম্যাচ সংখ্যা | সংশ্লিষ্ট বিশ্বকাপসমূহ |
| এমিলিয়ানো মার্টিনেজ | ১৩ (সেমিফাইনালে নামলে ১৪) | ২০২২, ২০২৬ |
| উবালদো ফিয়োল | ১৩ | ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২ |
| সের্হিও রোমেরো | ১২ | ২০১০, ২০১৪ |
| নেরি পুম্পিদো | ৯ | ১৯৮৬ |
| সের্হিও গয়কোচেয়া | ৬ | ১৯৯০ |
| আন্তোনিও রোমা | 6 | ১৯৬২, ১৯৬৬ |
| রোবের্তো আব্বোন্দানসিয়েরি | ৫ | ২০০৬ |
| দানিয়েল কার্নেভালি | ৫ | ১৯৭৪ |
এক অন্য আবেগের দ্বৈরথ
পরিসংখ্যানের এই দুর্দান্ত অর্জন মার্টিনেজকে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের আলোচনায় বাকিদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে টাইব্রেকার ঠেকিয়ে আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বজয়ের নায়ক এবারও দলের সবচেয়ে বড় ভরসার প্রতীক। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ আগলে রাখার পাশাপাশি তাঁর এই অবিশ্বাস্য ফর্ম দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ যেমন সুগম করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত রেকর্ডের দুয়ারও খুলে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই দ্বৈরথটি মার্টিনেজের কাছে শুধু বিশ্বরেকর্ডের লড়াই নয়, বরং এক ভিন্ন আবেগের গল্পও বটে। খুব ছোটবেলায় চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইংলিশ ফুটবলের মুলুকে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। আর্সেনালসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে ধারে খেলে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার ও আজকের এই বিশ্বমানের রূপ গড়ে তুলেছেন। এবার সেই পরিচিত দেশের ফুটবলারদের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে帝国 বুক চিতিয়ে লড়বেন আর্জেন্টিনার এই বাজপাখি।