নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে অনুষ্ঠিত হকি বিশ্বকাপে পুল ‘ডি’-এর এক রুদ্ধশ্বাস ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ভারত। রোমাঞ্চকর এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব হকির টার্ফে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে নিজেদের ৭০তম জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল ভারতীয় দল। পাশাপাশি এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হলো পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরু থেকেই টার্ফে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ভারতীয় হকি দল। দলের আক্রমণভাগ এবং রক্ষণভাগ দারুণ সমন্বয় দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং ফরোয়ার্ড অভিষেক নিজেদের সেরা ফর্মে থেকে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তারা দুজনেই অসাধারণ দক্ষতায় দুটি করে গোল করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া দলের আক্রমণভাগকে সচল রাখতে এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে মধ্যমাঠের নির্ভরযোগ্য তারকা হার্দিক সিংও একটি দর্শনীয় গোল নিশ্চিত করেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারত বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায়। তারা কয়েকটি আক্রমণ শানালেও ভারতের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের প্রাচীর ভেদ করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেই অবশ্য এক স্বস্তির খবর পেয়েছিল ভারতীয় শিবির। দিনের অপর ম্যাচে ইংল্যান্ড ৮-২ ব্যবধানে ওয়েলসকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। এই ফলাফলের কারণে ওয়েলস সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে যায় এবং পুলের সমীকরণ এমন দাঁড়ায় যে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য কেবল একটি ড্র করলেই চলত। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ছিল একপ্রকার বাঁচা-মরার লড়াই। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা ছিল না।
তবে ড্রয়ের সহজ সমীকরণে মনোযোগ না দিয়ে ভারত আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ মানেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে অতিরিক্ত উত্তেজনা, আবেগ এবং স্নায়ুচাপের এক মেগা লড়াই। তাই ভারতীয় কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়েরা বিষয়টিকে কখনোই হালকাভাবে নেননি। মাঠের লড়াইয়ে সেই পেশাদার মানসিকতার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবারের মতো পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছিল ভারতীয় হকি দল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক হকি টার্ফে ভারতের এই নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে অর্জিত এই জয় সেই পুরনো রেকর্ড এবং আধিপত্যকে আরও একবার মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করল। বিশ্বমঞ্চে দুই দলের এই ঐতিহ্যবাহী লড়াই দেখতে মাঠে ও টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার রোমাঞ্চিত দর্শক। এই জয়ের ফলে ভারতীয় হকি দল এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে পরবর্তী রাউন্ডের অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
