
জাতীয় দলের জার্সিতে ফের চোটে বার্সেলোনার ভরসা রাফিনিয়া
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে খেলতে নেমে ইনজুরিতে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। এই ঘটনায় স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা শিবিরে রীতিমতো দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমেছে। প্রথমার্ধের খেলা চলাকালীন পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে দুই গোলে সমতায় ফেরাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই তারকা ফুটবলার। তবে ম্যাচের ওই মুহূর্তটির পর আর তাকে মাঠে দেখা যায়নি। বিরতির ঠিক পরেই কোচ কৌশলগত পরিবর্তন এনে তার বদলে তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে মাঠে নামান। ক্লাবের মৌসুমের মাঝপথে দলের অন্যতম সেরা একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এভাবে চোটে পড়ায় কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সমর্থকরা সবাই এখন তার পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
চলতি ফুটবল মৌসুমে রাফিনিয়া অবিশ্বাস্য রকমের দারুণ ছন্দে আছেন। আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর আগে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম আটটি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি চোখ ধাঁধানো চৌদ্দটি গোল করেছেন। মাঠের ভেতরে তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের সাফল্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছিল। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই আশঙ্কা করেছিল যে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর বাড়তি ধকল এই খেলোয়াড়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ, সময়ের ব্যবধানে শরীরের ওপর চাপ এবং টানা খেলার ক্লান্তির কথা বারবার বলা হচ্ছিল। ক্লাবের কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়রা যখন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে যান, তখন তাদের শারীরিক ধকল নিয়ে একটা অদৃশ্য ভয় কাজ করে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের ওপর ভরসা রেখেই পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলেন।
রাফিনিয়ার ইনজুরির ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং এটি নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ অতীতেও বেশ কয়েকবার বিপাকে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করে ক্লাবে ফেরার পর ইনজুরিতে পড়ার ঘটনা তার জন্য নতুন কিছু নয়। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ চলাকালীন চোটে পড়ার নজির রয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় হঠাৎ করেই পেশিতে টান লাগে তার। সেই ইনজুরির কারণে তাকে তৎক্ষণাৎ জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে মাঝপথেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর স্পেনে ফিরে ক্লাব চিকিৎসকদের অধীনে দীর্ঘ rehabilitation প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে, যার ফলে প্রায় পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও তার একই ধরনের ইনজুরির পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। অতীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথমার্ধে ডান উরুর পেছনের অংশে মারাত্মক আঘাত পান তিনি, যার ফলে ব্রাজিলের পরবর্তী কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হয়েছিল দল। পরবর্তী সময়ে মেডিকেল স্ক্যান ও স্ক্যান রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে তার পেশির ওই নির্দিষ্ট অংশটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একই জায়গায় বারবার সমস্যা দেখা দেওয়ায় ফুটবলার এবং ক্লাব উভয় পক্ষই এখন অনেক বেশি সতর্ক থাকার নীতি গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে বার্সেলোনার মেডিকেল টিম পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। রাফিনিয়া দেশে ফিরে আসার পর পরই তার উরুতে বিস্তারিত স্ক্যান ও পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। ক্লাব চিকিৎসকরা এখন ফলাফলের আশায় বসে আছেন। যদি স্ক্যান রিপোর্টে পেশির চোটের ধরন খুব বেশি মারাত্মক বা গভীর না হয়, তবে হয়তো অল্প কিছুদিনের বিশ্রামের পরেই তিনি ক্লাবের অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়ে যদি পেশির টিস্যুতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা নতুন করে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ধরা পড়ে, তবে তাকে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। মৌসুমের এই ব্যস্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাফিনিয়ার মতো একজন ফর্মে থাকা খেলোয়াড়কে হারিয়ে ফেলা বার্সেলোনার লা লিগা এবং ইউরোপিয়ান ক্যাম্পেইনের জন্য অনেক বড় একটি ধাক্কা হতে পারে। এখন সবার চোখ কেবল মেডিকেল রিপোর্টের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।