
প্রীতি ম্যাচে খেলতে খেলতেই প্রাণ গেল পর্তুগিজ ফুটবলারের
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মাঠেই প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক ওয়েস্ট ব্রম মিডফিল্ডার কেভিন কাস্ত্রো। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফুটবলার শনিবার (২২ আগস্ট) তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রিয়াল স্পোর্টসের হয়ে শীর্ষ বিভাগের দল এস্ত্রেলা দা আমাদোরার বিপক্ষে খেলছিলেন। ম্যাচের একপর্যায়ে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর ম্যাচটি আর চালিয়ে নেওয়া হয়নি। আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় মাঠে নেমে আসে শোকের ছায়া। কাস্ত্রোর সতীর্থ, প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যেও তৈরি হয় গভীর শোক ও হতবাক পরিস্থিতি।
লিসবন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হৃদয়বিদারক এই সময়ে কেভিনের পরিবার, বন্ধু এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর প্রতি পর্তুগিজ ফুটবলের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানানো হচ্ছে। রিয়াল স্পোর্টস এবং এস্ত্রেলা দা আমাদোরাও পৃথকভাবে এই তরুণ ফুটবলারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।
কেভিন কাস্ত্রোর ফুটবল ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের অধ্যায়টিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে তিনি ওয়েস্ট ব্রমের একাডেমিতে যোগ দেন। প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটির মূল দলের কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং সিনিয়র ফুটবলেও খেলার সুযোগ পান।
ওয়েস্ট ব্রমের মূল দলের হয়ে তার অভিষেক হয় লিগ কাপে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে। এরপর নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তাকে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে পাঠানো হয়। বার্টন অ্যালবিয়ন, নটস কাউন্টি এবং গেটসহেডের হয়ে খেলেছেন তিনি। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ব্রমের সঙ্গে তার অধ্যায়ের ইতি ঘটে।
এরপর পর্তুগালে ফিরে ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছিলেন কাস্ত্রো। তৃতীয় বিভাগের রিয়াল স্পোর্টসের হয়ে মাঠে নামার সময়ই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কাস্ত্রোর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তার সাবেক ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট ব্রমও। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচে দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা কাস্ত্রোর স্মরণে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে ফুটবল মাঠে কাস্ত্রোর এমন আকস্মিক মৃত্যু পর্তুগিজ ও ইংলিশ ফুটবল—দুই অঙ্গনেই শোকের আবহ তৈরি করেছে। যে মাঠে নিজের স্বপ্ন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি লড়ছিলেন, সেই মাঠেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা।