
ব্যালন ডি’অরের লড়াই: শীর্ষ পাঁচের দৌড়ে এগিয়ে যারা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ পর্দা নামার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে prestigious ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এবারের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স হিসাব-নিকাশের সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফুটবলারদের পাশাপাশি ক্লাব মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করা তারকারাও দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই রয়েছেন। নতুন ক্লাব মৌসুমের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে এই তারকাদের ভাগ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে ঠিক কারা অবস্থান করছেন তালিকার শীর্ষে।
তালিকার পাঁচ নম্বরে থাকা লিওনেল মেসি বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্ব মঞ্চে আবারও নিজের জাদু দেখিয়েছেন। উনচল্লিশ বছর বয়সে আটটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এই জাদুকরকে পরে পেছনে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে ক্যাম্পিওনেস কাপ জয়ের পর ডেভিড বেকহামও তাকে এই পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও বিচারকদের দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের পারফরম্যান্সের সুবাদে তাকে আলোচনার বাইরে রাখা অসম্ভব।
চার নম্বরে থাকা রদ্রি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ তৈরি করা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করায় তার জুড়ি মেলা ভার। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতেন। তবে ক্লাব ফুটবলে তার সময়টা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কেটেছে। ইনজুরি কাটিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে ফেরার পর ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে তার। সিটি এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া করে। নতুন মৌসুমে বার্সেলোনাতে যোগ দেওয়ার পর নিয়মিত পুরো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়ায় ক্লাব পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের দাবিকে পুরোপুরি পোক্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে তার।
মাত্র উনিশ বছর বয়সে বিস্ময়কর সব কীর্তি গড়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছেন লামিন ইয়ামাল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে দুটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েছেন এই স্প্যানিশ সেনসেশন। গত বছর ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়া ইয়ামাল এবার প্রথমবার ট্রফিটি জেতার দৌড়ে বেশ শক্ত অবস্থানে আছেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে চব্বিশ গোল এবং আঠারোটি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন মৌসুমের শুরুটাও তিনি করেছেন দারুণ গতিতে, প্রথম সাত ম্যাচেই আটটি গোল করে জানান দিয়েছেন নিজের উপস্থিতি।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ছাব্বিশ পেরিয়ে সাতাশ বছরে পা রাখলেও এখনও তার শোকেসে ওঠেনি কাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অর। তবে এবারের বিশ্বকাপে দশ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার সুবাদে তিনি তীব্র আলোয় আছেন। মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মেসিকেও। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে নানা চাপ ও বিতর্কের মধ্যেও গত মৌসুমে চুয়াল্লিশ ম্যাচে বত্রিশ গোল করে নিজের গোলস্কোরিং দক্ষতা প্রমাণ করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্যালন ডি’অরের এই দৌড়ে আপাতত সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে নিজের সেরা রূপটি পুরোপুরি প্রকাশ করতে না পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে তার গোলের বন্যা এই অবস্থান ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত মৌসুমে বায়ার্নকে লিগ ও কাপ জেতানোর পথে একান্ন ম্যাচে একষটি গোল করেছিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ছয় গোল করে দলকে ১৯৬৬ সালের পর সেরা ফলাফলের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি। নতুন মৌসুমেও ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোল করার ধারা অব্যাহত রেখেছেন কেইন।