
মানের জাদুতে সালাহর বিষাদ: টানা দ্বিতীয়বার আফকন ফাইনালে সেনেগাল
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্ব আরও একবার সাক্ষী হলো সাদিও মানে বনাম মোহাম্মদ সালাহ লড়াইয়ের। মাঠের সেই মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসলেন মানেই। বুধবার রাতে টাঞ্জিয়ারের টাটকা লড়াইয়ে মিশরকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। সাদিও মানের এক দুর্দান্ত গোল সালাহর শিরোপার স্বপ্নকে চূর্ণ করে দিয়েছে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে এটি সালাহর বিপক্ষে মানের টানা তৃতীয় বড় জয়। এর আগে ২০২১ সালের আফকন ফাইনাল এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও সালাহকে অশ্রুসিক্ত করেছিলেন সাদিও মানে।
পুরো ম্যাচ জুড়ে সেনেগাল বল দখলে আধিপত্য দেখালেও মিশরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে তাদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ল্যামিন কামারার একটি জোরালো শট মিশরের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে মানের কাছে পৌঁছালে, ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। মিশরীয় খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের জন্য আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি কোনো সুযোগই পাননি বলটি রুখতে।
সেনেগাল বনাম মিশর: সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
| ফলাফল | সেনেগাল ১ – ০ মিশর |
| একমাত্র গোলদাতা | সাদিও মানে (৭৮ মিনিট) |
| বলের দখল | সেনেগাল ৬৬%, মিশর ৩৪% |
| আক্রমণ (টার্গেটে শট) | সেনেগাল ৫ (১৫), মিশর ১ (৩) |
| ফাইনাল প্রতিপক্ষ | মরক্কো |
| স্থান ও তারিখ | টাঞ্জিয়ার, রবিবার |
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ছন্নছাড়া। ফুটবলীয় নান্দনিকতার চেয়ে ফাউল আর সময়ক্ষেপণই ছিল বেশি। মিশরের কোচ হোসাম হাসান অনেকটা ‘নেতিবাচক’ ফুটবল উপহার দিয়েছেন, যেখানে সালাহ ও ওমর মারমুশকে আক্রমণভাগের চেয়ে রক্ষণভাগেই বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে। মিশরের এই অতি-রক্ষণাত্মক কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন সে দেশের সাবেক তারকা এসাম এল হাদারিও। অন্যদিকে, সেনেগালের কোচ আলিউ চিসে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। তবে জয়ের আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে কালিদু কুলিবালি ও হাবিব দিয়ারার কার্ড সমস্যার কারণে, যারা রবিবারের ফাইনালে খেলতে পারবেন না।
এই জয়ের ফলে সেনেগাল এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো আফকন শিরোপা জয়ের খুব কাছে। আগামী রবিবার তারা শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে। সাদিও মানে ম্যাচের পর বলেন, “মিশর সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ, তারা খেলা নষ্ট করতে পারদর্শী। কিন্তু আমরা আমাদের লক্ষ্যের ওপর অবিচল ছিলাম।” অন্যদিকে, সালাহর জন্য এটি আরও একটি যন্ত্রণাদায়ক রাত। লিভারপুলের এই সাবেক সতীর্থের কাছে আবারও হার মানতে হলো তাঁকে। মিশরের ফুটবলে হোসাম হাসানের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।