
মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অনন্য বিশ্বরেকর্ড
ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনেকের কাছে কেবলই সান্ত্বনার লড়াই হতে পারে, তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য এর গুরুত্ব ছিল ভিন্ন মাত্রার। সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ভুলে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রমিজ গ্লরি আর ব্যক্তিগত অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। মাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নিজের নাম লিখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এই পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে চলতি আসরের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যেমন তিনি সবার ওপরে উঠে এসেছেন, ঠিক তেমনি ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসির এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক ভাষা বলছিল, তিনি গোল পেতে কতটা মরিয়া। প্রথমার্ধে ফরাসি আক্রমণভাগের দলগত সংহতির চেয়ে এমবাপ্পের একক প্রচেষ্টায় গোল করার প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতর বল পেলেই নিজে শট নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা পাননি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। উল্টো ইংল্যান্ড যখন গোল করে ম্যাচে লিড নেয়, তখন ক্যামেরার লেন্সে তার মুখে এক চিলতে রহস্যময় হাসিও ধরা পড়ে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিরতির পর মাঠের চিত্রনাট্য পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয় অর্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফ্রান্স। ম্যাচের সেই চাপেরই ফল মেলে দ্রুত। সতীর্থ মাইকেল ওলিসের একটি নিখুঁত ও চমৎকার পাস থেকে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বল পান এমবাপ্পে। সামনে কেবল ইংলিশ গোলরক্ষক একা। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের নবম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের বয়স যখন এক ঘণ্টা পেরিয়েছে, ঠিক তখনই ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের হয়ে আরেকটি দর্শনীয় গোল করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়েই ফরাসি এই ফুটবল জাদুকরের মোট গোলসংখ্যা এখন দাঁড়াল ২২টি। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমন অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়া এমবাপ্পের সামনে আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও এই রেকর্ডকে আরও বহুদূর নিয়ে যাওয়ার অবারিত সুযোগ রয়েছে।
চলতি আসরের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এই জোড়া গোল এমবাপ্পেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির চেয়ে পরিষ্কার দুই গোলে এগিয়ে রয়েছেন। তবে রোববারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। শিরোপা নির্ধারণী সেই মহোৎসবে মেসির সামনেও সুযোগ থাকছে মাঠে জাদু দেখিয়ে এমবাপ্পের এই গোলসংখ্যাকে স্পর্শ করার কিংবা তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দুই মহাতারকার গোল্ডেন বুট জয়ের চূড়ান্ত দ্বৈরথ দেখার জন্য।