
মেসিকে ব্রাজিল দলে চাওয়ার কৌতুক মন্তব্য
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা কৌতুক করে লিওনেল মেসিকে ব্রাজিল জাতীয় দলে নেওয়ার কথা বলেছেন। আর্জেন্টাইন তারকাকে নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যকে তিনি হাস্যরসের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করেন, এবং এতে কোনো বাস্তব প্রস্তাব বা আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেই বলে স্পষ্ট বোঝা যায়।
বিষয়টি উঠে আসে মূলত ব্রাজিলের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করার পর। ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে, যা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল হয়নি বলে সমর্থকদের একাংশ মনে করছে। অন্যদিকে, একই প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত সূচনা করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলে জয় পায়। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লুলা দা সিলভা হাসতে হাসতে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন মেসিকে ব্রাজিল দলে নেওয়া যায় কি না। তাঁর এই মন্তব্য সম্পূর্ণ কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে করা হয়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার উল্লেখিত ম্যাচ তথ্য
| দল | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|
| ব্রাজিল | মরক্কো | ১–১ ড্র | প্রথম ম্যাচে সমতা |
| আর্জেন্টিনা | আলজেরিয়া | ৩–০ জয় | মেসির হ্যাটট্রিক |
ম্যাচ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ব্রাজিল দলের প্রথম পারফরম্যান্স নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন নন বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, মরক্কোই এই গ্রুপে ব্রাজিলের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত যখন ব্রাজিলকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়, তখনই দলটি ভালো ফল করে থাকে। তাঁর বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক প্রবণতার প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও এটি তিনি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উপস্থাপন করেননি।
ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ২০ জুন, হাইতির বিপক্ষে। তবে এই ম্যাচ নিয়ে দলে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে। বিশেষ করে নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, তিনি হাইতি ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে পারেন এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত।
তবে একই সময়ে নেইমারকে নিয়ে কিছু ইতিবাচক খবরও পাওয়া গেছে। তিনি চোট কাটিয়ে বুধবার দলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে অংশ নেন। অনুশীলনের সময় মাঠে হালকা প্রস্তুতির মাঝে সাংবাদিকদের দেখে তিনি হাসিমুখে বলেন—“আমাকে কি মিস করেছ?”
সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্টের কৌতুক মন্তব্য, দলের প্রথম ম্যাচের ফলাফল এবং খেলোয়াড়দের চোটসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।