
মেসির ব্যালন ডি’অর না পাওয়া নিয়ে রোমেরোর চাঞ্চল্যকর মন্তব্য
দুই বছর পর আবারও ব্যালন ডি’অরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছিলেন মেসি। তবে এবারও পুরস্কারটি জেতা হয়নি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকার। তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে তাঁকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘লস এদুল’কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রোমেরো। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মেসির প্রতি তাঁর আস্থা এখনো অটুট।
রোমেরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ব্যালন ডি’অর কিছুটা বিপণন কৌশল হয়ে গেছে। সম্ভবত যার ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেশি, তাকেই পুরস্কারটি দেওয়া হবে।’ কথাটি হাস্যরসের সঙ্গে বললেও পুরস্কারটির নির্বাচন নিয়ে তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট।
Cuti Romero, sobre el Balón de Oro:
"Hoy es un poco marketing y se lo darán al que más seguidores en Instagram tenga. Lo que hacía Leo no tiene comparación. Ellos son los mejores del mundo hoy, pero lo que hacía Leo no se lo he visto a nadie". https://t.co/rIbLCXYlwo
— Pablo Giralt (@giraltpablo) October 28, 2026
মেসির অসাধারণত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোমেরো বলেন, আগে গ্যালারিতে বসে একটি ম্যাচ দেখলেই বোঝা যেত, লিও মাঠে কী করছেন। তাঁর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা কঠিন ছিল। এ কারণেই মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বলে মনে করেন তিনি।
ব্যালন ডি’অর নির্বাচনে বড় শিরোপা জয়ের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতলেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া উচিত। কিন্তু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত দক্ষতা, মাঠে তাঁর প্রভাব এবং দলের পারফরম্যান্সে অবদানও যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
মেসির পরিবর্তে অন্য কাউকে পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ থাকলে কাকে বেছে নিতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রোমেরো বলেন, তিনি মেসিকেই বেছে নিতেন। বাস্তবে সেটি সম্ভব না হলেও তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য। বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৭৩টি গোল করেছেন। বায়ার্নের বুন্দেসলিগাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের গোল করার ধারাবাহিকতা এবং ক্লাব ফুটবলে অবদান তাঁকে পুরস্কারটির শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছিল।
তবে কেইন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা বিশ্বকাপ—কোনোটিই জিততে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছিল। পুরস্কার ঘোষণার আগে বুকমেকারদের বাজির হিসাবেও এগিয়ে ছিলেন তিনি।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি নিয়েও নিজের পছন্দ জানিয়েছেন রোমেরো। মেসির পর ঐতিহ্যবাহী এই জার্সি হুলিয়ান আলভারেজকে দিতে চান তিনি। বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ডকে জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত মনে করেন রোমেরো।
তবে তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল আরও ব্যতিক্রমী। মেসির অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে জার্সিটি স্থায়ীভাবে তুলে রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। রোমেরো বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি জার্সিটা তুলে রাখতাম। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে একটি ম্যুরাল তৈরি করে দিতাম। তাহলে কাউকে এই দায়িত্ব নিতে হতো না।’
বাস্তবে জার্সিটি কাউকে দিতে হলে আলভারেজকেই বেছে নেবেন বলে জানান রোমেরো। তাঁর মতে, আলভারেজের মধ্যে বিনয়, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পাশাপাশি মাঠে নিজেকে প্রমাণ করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতাও আছে তাঁর।
আলভারেজকে নিজের পছন্দের কথা একাধিকবার জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন রোমেরো। তবে তাঁর ভাষ্য, আলভারেজ নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে চান। আর্জেন্টিনা দলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় থাকলেও রোমেরোর বিশ্বাস, এই ফরোয়ার্ড ১০ নম্বর জার্সির দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখেন।
মেসির ব্যালন ডি’অর না পাওয়া নিয়ে রোমেরোর মন্তব্য এবং আলভারেজকে ঘিরে তাঁর প্রত্যাশা—দুটিই আর্জেন্টিনা ফুটবলে মেসির প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। একদিকে মেসির ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে রোমেরোর দৃঢ় অবস্থান, অন্যদিকে তাঁর উত্তরাধিকার বহন করার জন্য নতুন প্রজন্মের একজন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া—এই দুই বক্তব্যে ফুটবল কিংবদন্তির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।