
লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে খেলবেন বালোগান
চলমান ফিফা বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক ঘটনার সাক্ষী হলেন ফুটবলপ্রেমীরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সাধারণ নিয়মকে একপাশে সরিয়ে রেখে লাল কার্ড দেখার পরও পরবর্তী ম্যাচে খেলার অনুমতি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাঁর ওপর আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা নেই এই মার্কিন তারকার।
ঘটনার সূত্রপাত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে, যেখানে বসনিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে মার্কিনরা। তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের ডান গোড়ালিতে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করে বসেন বালোগান। রেফারি কোনো দ্বিধা না রেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর যেকোনো খেলোয়াড়কে অন্তত পরবর্তী একটি ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে বসে থাকতে হয়। কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে সেই অলিখিত নিয়ম যেন কাজ করল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আপিল এবং নানামুখী আলোচনার পর ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি বালোগানের এই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়। ফিফা তাদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এক বছরের পরীক্ষামূলক মেয়াদের (প্রবেশন পিরিয়ড) শর্তে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আগামী এক বছরের মধ্যে বালোগান যদি আন্তর্জাতিক মাঠে একই ধরনের কোনো গুরুতর ফাউল বা অপরাধে জড়ান, তবে তাঁর এই স্থগিতাদেশ তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে। সেক্ষেত্রে আগের এক ম্যাচের শাস্তির পাশাপাশি নতুন অপরাধের জন্য কঠোরতম শাস্তি যোগ হবে তাঁর ক্যারিয়ারে।
এদিকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার খবর সামনে এনেছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্বাগতিক দেশের সেরা তারকাকে নকআউট পর্বে খেলাতে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফিফা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি ফিফা সভাপতি ও শৃঙ্খলা কমিটির কাছে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতির এই অনুরোধের পর ফিফা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। নিজের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের এই বড় মঞ্চে দলের শক্তির ঘাটতি কোনোভাবেই চান না ট্রাম্প, তা তাঁর এই তৎপরতাতেই স্পষ্ট।
২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান এই মুহূর্তে মার্কিন শিবিরের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই তরুণ চার ম্যাচে মাঠে নেমে ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের পুরো পরিকল্পনাটাই তাঁকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়। মঙ্গলবারে সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। নকআউট পর্বের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বালোগানের দলে থাকা মার্কিন শিবিরে স্বস্তি ফেরালেও, ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।