
লেস্টার অধ্যায় পেরিয়ে শেফিল্ডে নতুন যাত্রা হামজার
ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্লাব ছেড়ে নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমালেও শেফিল্ডের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক একেবারে নতুন নয়। গত মৌসুমেই ধারে ক্লাবটির হয়ে খেলেছিলেন তিনি।
২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আবারও ফিরছেন ব্রামল লেনে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সিতে ১৬টি ম্যাচ খেলেছিলেন হামজা। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার স্থায়ী চুক্তিতেই ইংলিশ ক্লাবটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হামজার বিদায় নিশ্চিত করে লেস্টার সিটি জানিয়েছে, ক্লাবটিতে ২১ বছর কাটানোর পর তিনি স্থায়ী চুক্তিতে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন। বিবৃতিতে তাঁর আগের ধারের সময়ের কথাও উল্লেখ করে হামজার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছে লেস্টার।
লেস্টারের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তাঁর শৈশবে। ছোটবেলাতেই ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ধীরে ধীরে মূল দলে জায়গা করে নেন। দীর্ঘ পথচলায় লেস্টারের হয়ে মোট ১৬৫টি ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।
ক্লাবটির হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য আসে ২০২১ সালে। সেবার লেস্টার সিটি এফএ কাপের শিরোপা জেতে। পরে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতে দলটি আবারও শীর্ষ পর্যায়ে ওঠার পথ তৈরি করে। হামজাও সেই সাফল্যের অংশ ছিলেন।
লেস্টার অধ্যায়ের সমাপ্তি তাই শুধু একটি দলবদলের ঘটনা নয়; তাঁর পেশাদার ফুটবলজীবনের দীর্ঘ একটি অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি। একই সঙ্গে শেফিল্ডে তাঁর প্রত্যাবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জের দরজা খুলে দিচ্ছে।
হামজার এই দলবদল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের মাঝমাঠে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইংল্যান্ডের লাফবরায় জন্ম নেওয়া হামজার মা বাংলাদেশি। ছোটবেলা থেকেই ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার দেশটির বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন এবং ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে বেছে নেন হামজা। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ খেলেছেন হামজা এবং করেছেন চারটি গোল। মাঝমাঠে তাঁর উপস্থিতি দলের আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই প্রভাব ফেলেছে। ফলে ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে তাঁর পরবর্তী অধ্যায় বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকছে।
লেস্টারে ২১ বছরের পথচলা শেষ হলেও হামজার পেশাদার ক্যারিয়ার থেমে থাকছে না। পরিচিত পরিবেশ ব্রামল লেনে এবার তাঁকে স্থায়ীভাবে নতুন দায়িত্ব নিয়ে দেখা যাবে। একই সঙ্গে শেফিল্ড ইউনাইটেডে তাঁর পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।