বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে পুঁচকে কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই ঐতিহাসিক এক পয়েন্টের দেখা পেয়েছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ও লড়াকু ফুটবল খেলে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে তারা। ফেবারিট স্প্যানিশদের বিপক্ষে এই স্মরণীয় ড্রয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট টেবিলভুক্ত করার অনন্য গৌরব অর্জন করল কেপ ভার্দে।
মাঠের লড়াই ও প্রথমার্ধে স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবল
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন代 স্পেন। মাঠের লড়াইয়ে বল পজিশন স্প্যানিশদের অনুকূলে থাকলেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগের জমাট প্রতিরোধের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে একের পর এক আক্রমণ রচনা করে স্পেনের ফরোয়ার্ডরা। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড তোরেস গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন, যখন তাঁর শটটি ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।
স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারদের কঠোর পরীক্ষা দিতে হয়েছে। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তোরেস ও লাপোর্তের পা থেকে আসা দুটি নিশ্চিত গোলের আক্রমণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করে দেয় কেপ ভার্দের ডিফেন্স লাইন। স্পেনের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও কেপ ভার্দের রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে গোলশূন্য ব্যবধান নিয়েই শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশদের প্রথমার্ধের বিরতিতে যেতে হয়।
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অনবদ্য প্রাচীর
স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ম্যাচের শুরু থেকেই পোস্টের নিচে এক অনবদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমার্ধে স্পেনের তারকা স্ট্রাইকারদের নেওয়া বেশ কয়েকটি নিশ্চিত শট অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেভ বা প্রতিহত করেন তিনি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোজিনিয়ার এমন অসাধারণ ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করেছে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণভাগ নতুন উদ্যমে খেলা শুরু করে। তবে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডারদের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সামনে স্পেনের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। স্প্যানিশ মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠ থেকে বারবার বলের জোগান দিলেও ডি-বক্সের ভেতরে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা স্পেনের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কোনো ফাঁকা জায়গা দেয়নি। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়।
প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট এবং ঐতিহাসিক ড্রয়ের গুরুত্ব
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনের মতো দলের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের জন্য এক বিশাল বড় প্রাপ্তি। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ যেমন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, তেমনি ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আগমনী বার্তাও বেশ ভালোভাবেই জানান দিল আফ্রিকান দেশটি। স্পেনের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ জুড়ে বলের দখল ধরে রাখতে না পারলেও কাউন্টার অ্যাটাক ও জমাট রক্ষণ দিয়ে ম্যাচ ড্র করার এই ঐতিহাসিক কৌশলটি ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই সাবেক চ্যাম্পিয়নদের রুখে দেওয়ার এই দুর্দান্ত সাফল্য কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রথম ম্যাচ থেকে পাওয়া এই মূল্যবান ১ পয়েন্ট তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে গ্রুপ পর্বে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল স্প্যানিশরা। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে স্পেনকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারায় ফিরতে হবে।
