মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সৌদি আরবে হামলা এবং একের পর এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সূচি পরিবর্তনের ঘটনায় ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও এখনই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি সৌদি আরবের আয়োজক কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আয়োজক কমিটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলগুলোর সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্থানীয় আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি অনুমোদিত সময়সূচি অনুসারেই এগোচ্ছে। স্টেডিয়াম, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক সেবার কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।
আয়োজক কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নির্ধারিত সূচি মেনেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, যাতে প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দেশটিতে বড় ধরনের হামলার খবর এবং অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচিতে পরিবর্তন আসায় এশিয়ান কাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এর প্রভাব সৌদি আরবের ক্রীড়া সূচিতেও পড়তে শুরু করেছে। টেনিসের প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা ‘সিক্স কিংস স্ল্যাম’ অক্টোবরের পরিবর্তে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ফিফা ও সৌদি ই-স্পোর্টস ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় ‘ফিফা-ই ফাইনালস ২০২৬’ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরপর এসব সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে আসন্ন বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এশিয়ান কাপের সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবেই রয়েছে; প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এশিয়ান কাপ এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এতে মহাদেশের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দল অংশ নেয়। এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামের প্রস্তুতির পাশাপাশি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক দলগুলোর যাতায়াত, আবাসন, পরিবহন এবং ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থাপনাও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
তাই নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয় তার ওপর। আয়োজকদের জন্য একদিকে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের স্থানীয় আয়োজক কমিটি নির্ধারিত সূচি অনুসারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানেই রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। ফলে আপাতত ২০২৭ এশিয়ান কাপের সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বা আয়োজনের পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে প্রতিযোগিতার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
