
হালান্ড ও চেরকির জোড়া গোলে ক্রিস্টাল প্যালেসকে উড়িয়ে দিল সিটি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জয়রথ বজায় রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। শুক্রবার রাতে সেলহার্স্ট পার্ক স্টেডিয়ামে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জোড়া গোল আদায় করে নিয়েছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং ফরাসি মিডফিল্ডার রায়ান চেরকি। এই চমত্কার জয়ের সুবাদে চলতি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বর্তমান রানার্সআপরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই করেছিল স্বাগতিক ক্রিস্টাল প্যালেস। সিটির রক্ষণভাগকে চাপে রেখে তারা বেশ কয়েকটি আক্রমণও শাণিয়েছিল। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ১৭ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে বসে তারা। অ্যান্টোইন সেমেনিওর চমৎকার ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান আর্লিং হালান্ড। প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন সেই শট প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এসেই নিজের গোল খাতা খুলে ফেললেন এই তারকা স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে সিটির হয়ে ফিল ফোডেন একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন, অন্যদিকে বিরতির পর প্যালেসের এডওয়ার্ড এনকেতিয়াও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।
দ্বিতীয় অর্থমর শুরুতেই খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ম্যানসিটি। ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে বল জালে পাঠান রায়ান চেরকি। তবে এর ঠিক দুই মিনিট পরেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর নেওয়া একটি দারুণ ফ্রি কিক সরাসরি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার সময় সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ফলে ব্যবধান কমে ২-১ হয়।
প্যালেসের ঘুরে দাঁড়ানোর সেই আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ান চেরকি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে জালে প্রবেশ করে। এটি ছিল ম্যাচে চেরকির ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের শেষ দিকে এসে ৮৫ মিনিটে নিজের নামের পাশে আরও একটি গোল যোগ করেন হালান্ড। ফিল ফোডেনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে প্যালেসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিনি।
এই জয়ে প্রথম দুই রাউন্ড শেষে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের উপরের দিকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচ শেষে কোচ ও খেলোয়াড়দের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায়। বড় এই জয়ের পর কিছুটা স্বস্তির বিরতি পাচ্ছে স্কোয়াডটি। আগামী এক সপ্তাহ কোনো ম্যাচ না থাকায় খেলোয়াড়েরা নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
এরপর প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী ম্যাচে সদ্য প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত দল কভেন্ট্রি সিটির মুখোমুখি হবে ম্যানসিটি। তবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন তার পরের সপ্তাহের ম্যাচটির দিকে। কারণ ওই সপ্তাহে ঐতিহাসিক ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে মৌসুমের প্রথম বহুল প্রতীক্ষিত ম্যানচেস্টার ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে দলটি।