আর্নেস্ট ভিলিমভস্কি ছিলেন বিশ শতকের ইউরোপীয় ফুটবলের এক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার, যিনি পোল্যান্ড ও জার্মানি উভয় দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন। তাঁর গোল করার দক্ষতা এবং ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে এক ম্যাচে চার গোল করার কৃতিত্ব তাঁকে ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে। তবুও রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং নাগরিকত্বজনিত জটিলতার কারণে তাঁর ক্যারিয়ার ও পরিচয় বহু বিতর্ক ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
আর্নেস্ট ভিলিমভস্কির জন্ম ১৯১৬ সালে তৎকালীন জার্মান সাম্রাজ্যের কাতোভিচ শহরে, যেখানে তাঁর জন্মনাম ছিল আর্নেস্ট অটো প্রাডেলা। পরবর্তীতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও অভিভাবকের পদবি অনুসারে তাঁর নাম পরিবর্তিত হয়ে আর্নেস্ট ভিলিমভস্কি হয়। তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ডান পায়ে জন্মগতভাবে ছয়টি আঙুল থাকার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য ছিল, যা তাঁর ফুটবল দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে।
শৈশবে তিনি ইউরোপের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বড় হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর পিতা নিহত হন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কাতোভিচ অঞ্চল পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে তাঁর জাতীয় পরিচয়ও পরিবর্তিত হয়।
ক্লাব পর্যায়ে ভিলিমভস্কি পোলিশ ক্লাব রুখ চোরজোভের হয়ে খেলেন এবং ১৯৩০-এর দশকে দলটিকে চারবার লিগ শিরোপা জয়ে সাহায্য করেন। তিনি ১৯৩৪ ও ১৯৩৬ সালে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন।
১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের হয়ে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স আসে ব্রাজিলের বিপক্ষে। স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে পোল্যান্ড প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও তিনি দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করেন এবং অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করেন। তবে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ৬–৫ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
নীচে তাঁর ক্যারিয়ারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো—
| প্রতিযোগিতা | দল | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| আন্তর্জাতিক | পোল্যান্ড | ২২ | ২১ |
| আন্তর্জাতিক | জার্মানি | ৮ | ১৩ |
| বিশ্বকাপ ১৯৩৮ | পোল্যান্ড বনাম ব্রাজিল | ১ | ৪ |
১৯৩৯ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে পোল্যান্ডের একটি ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করেন, যা পরে “শেষ ম্যাচ” হিসেবে পরিচিত হয়। এর কিছুদিন পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইউরোপীয় ফুটবল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং জার্মান জাতীয় দলে খেলেন। এই সময় তিনি জার্মানির হয়ে ৮ ম্যাচে ১৩ গোল করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সীমিত হয়ে পড়ায় ১৯৪২ সালের পর তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ার থেমে যায়।
যুদ্ধ শেষে তিনি পোল্যান্ডে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁকে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জার্মানিতে বসবাস করতে থাকেন এবং সেখানেই জীবন কাটান। ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
