
আলভারেজ নয়, ইন্টার মিলানের লাউতারোর দিকে নজর বার্সেলোনার
হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির বর্তমান প্রধান লক্ষ্য এখন আরেক আর্জেন্টাইন তারকা ও ইন্টার মিলান অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ। দলবদলের বাজারে নতুন এই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে বেশ জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
শুরু থেকেই বার্সেলোনার পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন আলভারেজ। এই ফরোয়ার্ড নিজেও ক্যাম্প ন্যুতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বর্তমান ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ তাকে কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয়। ফলে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় আলভারেজকে পাওয়ার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছে বার্সেলোনা ম্যানেজমেন্ট।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল চিরিঙ্গাতোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনা ইতোমধ্যে লাউতারো মার্তিনেজের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্ত নিয়ে একটি নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি লাউতারোর প্রতিনিধির সঙ্গে বার্সার ক্রীড়া পরিচালক দেকোর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনাতেই চুক্তির রূপরেখা ও শর্তগুলো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ব্যক্তিগত সমঝোতা হলেও এই দলবদলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান। ক্লাবটির অবস্থান একদম পরিষ্কার—তারা কোনোভাবেই তাদের অধিনায়ক ও দলের মূল ভরসাকে বিক্রি করতে ইচ্ছুক নয়। লাউতারোকে তারা স্কোয়াডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে। এ ছাড়া ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকায় সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে তারকা স্ট্রাইকারকে বিক্রি করলে বদলি খেলোয়াড় খুঁজে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না ইন্টারের সামনে।
তবুও হাল ছাড়তে নারাজ বার্সেলোনা। ইন্টার মিলানের কাছে খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে গুঞ্জন রয়েছে যে, সেই প্রস্তাব ১০ কোটি ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাবে না। ক্লাবটির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিকল্প হিসাব-নিকাশ কষছে তারা।
ইন্টার মিলানের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন লাউতারো। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ৩৭৬টি ম্যাচ খেলে ১৭৫টি গোল এবং ৫৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। মাঠের খেলায় তার নেতৃত্বগুণ এবং গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতাই তাকে বার্সেলোনার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নজরে এনে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইন্টারকে রাজি করিয়ে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে কাতালান শিবিরে নেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।