এমবাপ্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব ফাঁস করলেন ভিনিসিয়ুস

গত দেড় বছর ভিনিসিউস জুনিয়রের জন্য মসৃণ হয়নি। ফর্মের ওঠানামা, সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ছায়া তার খেলার উপর পরেছে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারটি আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন।

ভিনিসিউসের বর্তমান চুক্তি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নতুন চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এখনও চলছে, তবু তিনি স্পষ্ট করেছেন, মাদ্রিদেই তিনি খুশি। স্প্যানিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইবাই ইয়ানোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“আমি খুবই খুশি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলতে পারা, আমার জীবন ও পরিবার, সবকিছু আমাকে আনন্দ দেয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে সুখী থাকা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর কিছুটা প্রভাব পড়েছিল ভিনিসিউসের পারফরম্যান্সে। তবে নিজের কথায় ভিনি স্পষ্ট করেছেন, দুজনের সম্পর্ক “দারুণ”।

“প্রতি গ্রীষ্মেই তাকে লিখতাম—‘তুমি কবে আসছো?’ আমি যেন এজেন্টের মতো কাজ করতাম। বেলিংহামের ক্ষেত্রেও তাই করেছি। আমি সেরাদের সঙ্গে খেলতে চাই, যাতে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। আমরা পরিবারের চেয়েও একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় কাটাই, তাই ভালো সম্পর্ক থাকা জরুরি।”

ছোট বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে বড় তারকা হয়ে ওঠার চাপ নিয়েও ভিনিসিউস খোলামেলা কথা বলেছেন।

“ছোট বয়সে আমরা খ্যাতি সামলাতে শিখি না। হঠাৎ করেই বিখ্যাত হয়ে যাই। তখন রাস্তায় বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ভালো দিক হলো মানুষ ভালোবাসে, খারাপ দিক হলো সংবাদমাধ্যম ও প্রতিপক্ষ সমর্থকদের চাপ। তবে প্রতিপক্ষের শিস আমি উপভোগ করি। চাপের মুহূর্তেই সেরা খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করে।”

সম্প্রতি তিনি রোনাল্ড আরাউহো-র সঙ্গে মানসিক বিষয় নিয়ে আলোচনাও করেছেন।

“সবকিছু শুনতে হয়, শুধু ভালো কথাই নয়।”

নিচের টেবিলে ভিনিসিউস জুনিয়রের রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

বিষয়বিবরণ
নামভিনিসিউস জুনিয়র
জন্মস্থানসাও গোনকালো, ব্রাজিল
বয়স22 বছর (২০২৬ পর্যন্ত)
অবস্থানউইংার
ক্লাবরিয়াল মাদ্রিদ
বর্তমান চুক্তি২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত
প্রধান সহকর্মীকিলিয়ান এমবাপ্পে, রোনাল্ড আরাউহো, বেলিংহাম
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সফর্মে উন্নতি, মূল দলে নিয়মিত
মানসিক ফোকাসচাপ মোকাবিলা, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা

ভিনিসিউসের কথায় স্পষ্ট, ফর্ম ও ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও ভালো সম্পর্কও তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এমবাপ্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং দলের ভিতরে পারস্পরিক সমঝোতা তাঁকে আবারও সেরার মধ্যে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment