বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮২ ধাপ পিছিয়ে থাকা হাইতির মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে সেই চাপ কাটিয়ে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের পক্ষে জয়সূচক গোলগুলো আসে।
ব্রাজিলের এই জয়ের মূল নায়ক ছিলেন স্ট্রাইকার মাতেউস কুনিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মধ্যে তিনি চমৎকার দক্ষতায় দুটি গোল করেন। কুনিয়ার এই জোড়া গোল দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং ব্রাজিলকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দিতে সহায়তা করে। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের এই পুনরুত্থান বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
খেলার স্কোরবোর্ড ব্রাজিলের পক্ষে ৩-০ ব্যবধান দেখালেও দলের গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল বেশ কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে। এছাড়া অফসাইডের কারণে ব্রাজিলের দুটি গোল বাতিল ঘোষণা করা হয়। ম্যাচের ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৭৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় এনদ্রিকের আরেকটি গোল অফসাইডের নিয়মে নাকচ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি আনচেলত্তির শিষ্যরা আরও অন্তত তিনটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ও বিধ্বংসী ফুটবল খেললেও, বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ধার কিছুটা কমে আসে।
নিচে ম্যাচের মূল ঘটনাবলি এবং পরিসংখ্যানের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
ম্যাচের প্রধান পরিসংখ্যান ও ঘটনাবলি
| বিষয়ের বিবরণ | ম্যাচের তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| প্রতিপক্ষ দলসমূহ | ব্রাজিল বনাম হাইতি |
| খেলার ফলাফল | ব্রাজিল ৩, হাইতি ০ |
| খেলার ভেন্যু | ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম |
| ব্রাজিলের প্রধান কোচ | কার্লো আনচেলত্তি |
| ম্যাচের গোলদাতা | মাতেউস কুনিয়া (২টি গোল) |
| গোল বাতিলের ঘটনা | ২টি (১২ মিনিটে রাফিনিয়া এবং ৭৮ মিনিটে এনদ্রিক) |
| গোল বাতিলের কারণ | অফসাইড |
| নষ্ট হওয়া গোলের সুযোগ | ন্যূনতম ৩টি |
| প্রথমার্ধের ফলাফল | ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল |
| দ্বিতীয়ার্ধের গোল সংখ্যা | কোনো গোল হয়নি |
প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের পর ব্রাজিলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের যোগ্যতা এবং দলে একজন কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব নিয়ে গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছিল। হাইতির বিরুদ্ধে এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল দল সেই সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। বিশেষ করে ৯ নম্বর জার্সিধারী মাতেউস কুনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গতি ও ধার কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে কিছুটা প্রশ্ন থেকে গেছে। তা সত্ত্বেও, এই জয়টি বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বের দৌড়ে ব্রাজিলকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
