
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং নরওয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে চলমান এই ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে। ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকের সুবাদেই এই ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দলটি। উল্লেখ্য, দুই দলের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর এবং খেলা শুরুর আগে ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শুরুর একাদশে চমক
ম্যাচের শুরুতেই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন। তিনি দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ তারকা খেলোয়াড়—আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড এবং আলেকসান্ডার সরলথকে শুরুর একাদশে (স্টার্টিং লাইন-আপ) না রেখেই দল মাঠে নামান।
ম্যাচের সময়ানুক্রমিক ঘটনা ও গোল বিবরণী
১ম মিনিট (২৩ সেকেন্ড): কিক অফের পরপরই প্রথম আক্রমণটি করে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপের নেওয়া একটি শট প্রতিপক্ষের দূরবর্তী পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪র্থ মিনিট: ফ্রান্সের মিডফিল্ডার কোনে একটি শট নেন, তবে নরওয়ের গোলকিপার এগিল সেলভিক সেটি সফলভাবে আটকে দেন।
৭ম মিনিট (ফ্রান্স ১ – ০ নরওয়ে): ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে নরওয়ের বক্সে প্রবেশ করেন উসমান দেম্বেলে। তার নেওয়া জোরালো শটটি নরওয়ের গোলকিপার প্রতিহত করতে পারেননি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এটি চলতি টুর্নামেন্টে দেম্বেলের দ্বিতীয় গোল।
১৪তম মিনিট: সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করে নরওয়ে। ফ্রেডরিক অউরেস্নেসের বাড়ানো লং বল বক্সে পা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন। তবে ড্রপ খাওয়া বলে নেওয়া তার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
১৭তম মিনিট: কিলিয়ান এমবাপের একটি নিশ্চিত গোল করার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন নরওয়ের গোলকিপার।
২০তম মিনিট (ফ্রান্স ২ – ০ নরওয়ে): মাঝমাঠ থেকে এমবাপের থ্রু বল ধরে বক্সের কয়েক গজ দূর থেকে বাম পায়ের গতিময় শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২১তম মিনিট (ফ্রান্স ২ – ১ নরওয়ে): ঠিক পরের মিনিটেই নরওয়ে ব্যবধান কমায়। বাম প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে একটি নিচু শটে ফ্রান্সের জাল কাঁপান নরওয়ের মিডফিল্ডার থেলোনিয়াস আসগার্ড।
২২তম মিনিট ও হাইড্রেশন ব্রেক: ম্যাচের ২২ মিনিটের মধ্যে দুই দল মিলে মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি শটই ছিল লক্ষ্যে। এরপর নতুন নিয়মানুযায়ী ম্যাচে একটি ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ দেওয়া হয়।
৩২তম মিনিট (ফ্রান্স ৩ – ১ নরওয়ে): বক্সে বল পেয়ে নরওয়ের তিনজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে নিজের তৃতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন উসমান দেম্বেলে। এর ফলে ফ্রান্স ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে।
দেম্বেলের হ্যাটট্রিক ও নতুন রেকর্ড
নরওয়ের বিপক্ষে ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করার মাধ্যমে ফরাসি এবং পিএসজি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে (মিনিটের হিসেবে) দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিনিটের হিসেবে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি রয়েছে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্টের নামে। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। বোস্টন স্টেডিয়ামে ৩২ মিনিটের মাথায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে উসমান দেম্বেলে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করলেন।